নন্দ উৎসবের মধ্যদিয়ে জলপাইগুড়ি রাজবাড়ির ৫১৭তম দুর্গাপুজোর সূচনা
বর্তমান | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তারক চক্রবর্তী, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির ৫১৭তম বর্ষের দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ল। নন্দ উৎসব ও কাঠাম পুজোর মধ্যেদিয়ে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এবারে দুর্গোৎসবের সূচনা হল। পারিবারিক নিয়ম মেনে জন্মাষ্টমীর পরের দিন সকালে নন্দ উৎসবের অঙ্গ হিসেবে কাদা খেলার আয়োজন হয় রাজবাড়িতে। প্রথা অনুযায়ী ওই কাদা খেলার মাটি দিয়েই মায়ের মূর্তির প্রথম প্রলেপ দেওয়া হয়। এদিন থেকেই রাজবাড়ির নাট মন্দিরে মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হল। রাজবাড়ির নিয়ম মেনে মহালয়ার সকালে চক্ষুদান করা হবে বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গামূর্তিতে।
জানা গিয়েছে, কালিকা পুরাণ মতে জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজ এস্টেটে দুর্গাপুজো হয়। কথিত আছে, দুই সহোদর একযোগে শুরু করেছিলেন মা দুর্গার আরাধনা। দেবীর কৃপায় একজন হয়েছিলেন কোচবিহারের রাজা। অন্যজন জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুরের। সেই থেকে একবারের জন্যও ছেদ পড়েনি মায়ের আরাধনায়। দেবী এখানে তপ্ত কাঞ্চন বর্ণা। অর্থাৎ সোনা গলানো তাঁর গায়ের রং। ইতিহাসবিদদের দাবি, এক সময় এই পুজোয় নরবলি প্রথা চালু ছিল। এখনও গুপ্ত পুজো চালু আছে।
রাজবাড়ির কুলপুরোহিত শিবু ঘোষাল বলেন, আগের প্রথা যুগের সঙ্গে বদলে গিয়েছে। এখন নরবলির বদলে চাল কুমড়ো, পাঁঠা ও পায়রা বলি দেওয়া হয়। ইতিহাসবিদরা জানান, রাজবাড়িতে শিশু সিংহ ও বিশু সিংহ দুই ভাই মায়ের পুজো শুরু করেন। সেই সময়ে দুর্গাপুজোর সূচনার পাশাপাশি একই রকমের তিনটি সোনার মহিষাসুর মর্দিনী মূর্তি তৈরি করেছিলেন তাঁরা। যার একটি রয়েছে কোচবিহার রাজার তৈরি ভগবতী মন্দিরে। একটি জলপাইগুড়ি বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে। আরও একটি মূর্তি জলপাইগুড়ির জোর পাকড়ি এলাকায় পুজো হতো। সেটি হারিয়ে গিয়েছিল। পরে ময়নাগুড়ির খয়ের খাল এলাকা থেকে উদ্ধার হয়। সেই কারণেই এই সোনার দুর্গা মূর্তি নিয়ে পুজোর সময়ে আঁটোসাটো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। সেই মূর্তি লোকচক্ষুর আড়ালে রেখেই রাজবাড়ির অন্দরে সারা বছর মহিষাসুর মর্দিনীর পুজো করেন পরিবারের সদস্যরা। ষষ্ঠী থেকে দশমী পূজিতা হন মৃন্ময়ী দুর্গা। নন্দ উৎসব উপলক্ষ্যে এদিন রাজ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। • নিজস্ব চিত্র।