মদ্যপানের পরেই অস্বাভাবিক মৃত্যু একাধিক ব্যক্তির, ফের বিষমদ কাণ্ড না অন্যকিছু? তদন্তে পুলিশ
বর্তমান | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভোপাল, ৬ সেপ্টম্বর: মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় মদ্যপানের পর একের পর এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল শনিবার। জানা গিয়েছে শনিবার রাতে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের সকলেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, শনিবার রাতে মদ্যপানের পর আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন কয়েকজন। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ওই পথেই মৃত্যু হয় সকলের। মৃতরা মূলত পাতন, গুগরা, চৌকা এবং মাগরধা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে বিষমদকেই মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এবিষয়ে কোনো কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। মৃত ও অসুস্থ ব্যক্তিরা ঠিক কোথা থেকে মদ সংগ্রহ করেছিলেন, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের পান করা মদের নমুনা পরীক্ষা করার পাশাপাশি মদের উৎস এবং সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেআইনিভাবে তৈরি বা ভেজাল মদের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একাধিক ব্যক্তি একই ধরনের পরিস্থিতিতে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। কোনও বেআইনি মদ-চক্র এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিষমদ পান করে মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। গত মাসে গুজরাতের ভাবনগর জেলায় বিষাক্ত মদ পান করে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, মৃতেরা একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মদ ভেবে ওই পানীয় পান করেছিলেন। পরীক্ষায় পানীয়টিতে ৩৮.৫৯ শতাংশ বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
গুজরাতের আইন অনুযায়ী মদ তৈরি, বিক্রি ও পান নিষিদ্ধ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রদেশের সাগরে একই ধরনের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে বেআইনি মদের কারবার নিয়ে। তবে সাগরের ঘটনায় বিষমদই মৃত্যুর কারণ কি না, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষা করছে প্রশাসন।