2502 Mid salboni burishol village no devlopment copy UC
Times of India | 6 September 2026
জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের অন্তর্গত কর্ণগড় গ্রাম
পঞ্চায়েতের বুড়িশোল গ্রাম। এই গ্রামে বসবাস করেন লোধা শবর সম্প্রদায়ের
মানুষেরা। এই গ্রামটি মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হলেও জঙ্গল ঘেরা
একটি গ্রাম। চারিদিকে জঙ্গল আর তার মাঝেই প্রায় ৭০টি বাড়ি এই গ্রামে।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা সকলের আড়ালে এই গ্রামটিতে ঢোকেনি উন্নয়নের
আলো। উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও নেই এই গ্রামে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই গ্রামে নেই
ভাল রাস্তা, নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা, দূর থেকে আনতে যেতে হয় পানীয় জল।
গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই পাননি বাংলার আবাস যোজনার বাড়ি। ভাঙা মাটির ঘরে,
ছেড়া ত্রিপলের তলায় জীবন কাটাচ্ছে এই পরিবারগুলি। বৃষ্টি হলে সমস্যা হয়
আরোও চরমে। সেই সাথে জঙ্গল ঘেরা গ্রাম হাওয়ায় হাতির আনাগোনা থাকে সারা বছর।
অনেকেই আবার জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কোনোটিরই
সুবিধা পাননি এই গ্রামের মানুষেরা। পাননি লক্ষির ভান্ডার, পাননি বিধবা ভাতা,
পাননি বার্ধক্য ভাতা, এমনকি রেশনের চালটুকুও নাকি পাননি সকলে ঠিকঠাক ভাবে। ভোট
আসে,ভোট যায়, কিন্তু দিনের পর দিন অন্ধকারেই থাকে এই গ্রামটি। ভোট মিটে গেলেই
আর কেউ আসেনা এই গ্রামে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে
তাদের দাবি পূরণ না হলে ভোট দিতে যাবেন না গ্রামের বাসিন্দারা, এবারের
বিধানসভা নির্বাচনে বয়কট করবেন দীর্ঘদিন ধরে সকলের অবহেলায় থাকা এই গ্রামের
বাসিন্দারা। যদিও গ্রামবাসীদের ওই অভিযোগ মানতে নারাজ প্রশাসন। শালবনী বিডিওর
দাবি, ওই গ্রামে হয়েছে বাড়ি, রয়েছে পানীয় জলের সুব্যবস্থা, রয়েছে কংক্রিট
রাস্তা, এছাড়াও একাধিক প্রকল্পের সুব্যবস্থার করা হয়েছে এই গ্রামের
বাসিন্দাদের জন্য।অপরদিকে, জঙ্গলমহলের এই দুর্দশা নিয়ে বর্তমান রাজ্য সরকার
তৃণমূলকে কটাক্ষ বিজেপির। বিডিও শালবনী রুমান মন্ডল বলেন, ওই গ্রামের সমস্যার
বিষয়টা আমাদের কাছে এসেছে। খোঁজখবর নিয়ে দেখা গিয়েছে, ৪৪ জন মানুষ বিভিন্ন
আবাস প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। তিনটা সাব মার্সেবল ওয়াটার ইন্সটল করা
হয়েছে। ওই গ্রামের স্কুলের শিশুদের জন্য মাঝে মধ্যেই স্বাস্থ্য শিবির ক্যাম্প
করা হয়। আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পে লাইটের ব্যবস্থা করেছে। কিছু
মানুষের অভিযোগ হয়তো উঠে এসেছে, সেটাও আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। আমরা ওই
এলাকায় টিম পাঠাচ্ছি, যদি কোন সমস্যা থাকে তার সমাধান করার ব্যবস্থা করব।
বিজেপি জেলা সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, লোধা শবরদের গ্রামে উন্নয়নের
ছোঁয়া পায়নি ১৫ বছরে তৃণমূলের আমলে। না আছে এসসি সার্টিফিকেট, না আছে তাদের
বাড়ি, খাওয়ার জল, রাস্তা, বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা, লক্ষ্মীর ভান্ডার। মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন উন্নয়ন করে ফেলেছি একশো শতাংশ। এই গ্রামটিকে কি চোখে
দেখে সরকার ও দল তা বুড়িশোল গ্রামে গেলেই দেখতে পাবেন। প্রশাসন কি ঘুমাচ্ছেন
কেন সরকারী সুযোগ সুবিধাই থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার মানুষেরা।তৃণমূলের জেলা
কমিটির নেতৃত্ব তথা শালবনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেপাল সিংহ বলেন, ওই
এলাকায় একাধিকবার জেলা শাসকের উপস্থিতিতে মিটিং করা হয়েছে। তাদের সমস্যা
সমাধানের জন্য বাড়ি দেওয়া থেকে শুরু করে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তারপরেও যদি কিছু সমস্যা থাকে সেগুলি খতিয়ে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার ওই এলাকায়
যাওয়ার কথা রয়েছে বিডিওর সাথে।
Sujoy Khanra
*ReporterPaschim Midnapur9735662733, 9434369644*
Link to this news (Times of India)