এই সময়, আসানসোল: আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে খুন-ধর্ষণের ঘটনায় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারি ও শাস্তির দাবি তুলেছেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নমিত্রা পাল। শুক্রবার আসানসোলের কোর্ট রোড এলাকায় একটি দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজোয় যোগ দিয়ে এই দাবি করেন অগ্নিমিত্রা। এ দিনই নিজের বিধানসভা এলাকায় আসানসোল পুরসভার ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের আট নম্বর বস্তিতে আয়োজিত জনতার দরবার কর্মসূচিতে মহিলাদের একাংশের তুমুল ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে।
আরজি কর মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তথা পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে পুলিশ এ দিন উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করলে সেই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ‘নির্মল ঘোষ বা সোমনাথ দে-র মতো ব্যক্তিরা যদি গ্রেপ্তার হতে পারেন, তবে সে দিনের পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন ছাড় পাবেন? তিনি আরও বলেন, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সেই রাতে ভিন জায়গায় ময়না তদন্ত করা কিংবা ঘটনাস্থলটি সঠিক ভাবে সংরক্ষিত করার কোনও নির্দেশ দেননি।’ মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিলম্বে গ্রেপ্তার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
অন্য দিকে, এ দিন জনতার দরবার কর্মসূচিতে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না-পাওয়ার অভিযোগ জানাতে আসা বহু মহিলা অগ্নিমিত্রার কাছে পৌঁছতে না-পেরে বিক্ষোভ করতে থাকেন। সকাল থেকে অপেক্ষা করেও মন্ত্ররী সঙ্গে কথা বলতে না-পেরে জোৎস্না বাউড়ি, মনীষা দেবী ও কাকলি দে-রা অভিযোগ করেন, ভোটের আগে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। একপর্যায়ে ঘরের বাইরে হট্টগোল বেড়ে গেলে মন্ত্রী নিজেই লাউডস্পিকার হাতে বাইরে বেরিয়ে আসেন। উপস্থিত মহিলাদের ধমকের সুরে অতিরিক্ত কথা না-বলার নির্দেশ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। পরে এক স্থানীয় বিজেপি নেতার কাছে নিজেদের ফোন নম্বর জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে দ্রুত বিষয়টি অনুসন্ধানের আশ্বাস দেন অগ্নিমিত্রা পাল।