• উত্তম কুমার 'ট্রেন্ডিং', আবেগঘন প্রসেনজিৎ, বাবার কথার প্রসঙ্গ টেনে কোন সত্যি সামনে আনলেন প্রসেনজিৎ?
    আজকাল | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত ট্রেন্ডিংয়ে এক নম্বরে মহানায়ক উত্তম কুমার। বাঙালির আবেগ, নস্ট্যালজিয়া আর ভালবাসার সেই নামকে ঘিরেই আয়োজিত হল বিশেষ সন্ধ্যা। সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা বহু মানুষ। ছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বাবা, বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও। মহানায়ককে ঘিরে এই বিশেষ আয়োজনের সাক্ষী হয়ে আবেগঘন হয়ে উঠল সন্ধ্যা।

    উত্তম কুমারকে নিয়ে বলতে গিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের গলায় ধরা পড়ল গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগ। তিনি বলেন, “মহানায়ক ছিলেন, আছেন, থাকবেন।” শুধু পর্দার নায়ক হিসেবেই নয়, যাঁরা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁর সান্নিধ্যে এসেছেন, তাঁদের কাছেও উত্তম কুমার ছিলেন অত্যন্ত আপন একজন মানুষ।

    এই বিশেষ সন্ধ্যায় উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা মানুষদের একত্রিত করতে পারাটাকেই বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন প্রসেনজিৎ। তাঁর কথায়, উত্তম কুমার যাঁদের অত্যন্ত ভালবাসতেন, তাঁদের আবার এক জায়গায় নিয়ে আসতে পেরেছি। কেউ মহানায়কের সঙ্গে কাজ করেছেন, কেউ তাঁর জন্য জল এগিয়ে দিয়েছেন, কেউ বা অন্য কোনওভাবে তাঁকে সাহায্য করেছেন—প্রত্যেকের কাছেই উত্তম কুমার ‘উত্তম জেঠু’ ছিলেন খুব প্রিয়।

    প্রসেনজিৎ বলেন, “আজ ভাল লাগছে ওঁর সঙ্গে যারা কাজ করেছেন, জল দিয়েছেন, বা অন্যান্য কাজে সাহায্য করেছেন, এঁদের সকলকে আবার এখানে আনতে পেরেছি। উত্তম জেঠু খুব ভালবাসতেন এঁদের।”

    তবে এই আয়োজনকে শুধু একটি দিনের অনুষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান না প্রসেনজিৎ। মহানায়ককে এমনভাবে উদযাপন করতে চেয়েছিলেন তিনি, যাতে আগামী প্রজন্মও উত্তম কুমারের গুরুত্ব ও অবদান মনে রাখে। প্রসেনজিতের কথায়, “মহানায়ক উত্তম কুমারকে আমি চেয়েছিলাম এই ভাবে উদযাপন করতে, যেন আগামী ১০০ বছর পরেও যাঁরা উদযাপন করবেন, আমি নিশ্চিত তাঁরা যেন মনে রাখেন।”

    এই বিশেষ সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিতের বাবা, বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও। উত্তম কুমারকে নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান দেখে তাঁরও মন ছুঁয়ে গিয়েছে। অনুষ্ঠানে এসে কেমন লাগছে, সেই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিশ্বজিৎ বলেন, মনে হচ্ছে যেন তিনি অন্য কোনও জগতে চলে এসেছেন—‘উত্তম জগতে’।
    বিশ্বজিতের কথায়, “এখানে এসে খুবই ভাল লাগছে। মনে হচ্ছে, কোনও এক অন্য জগত—উত্তম জগতে চলে এসেছি।” এরপরই ছেলের প্রশংসা করে তিনি জানান, এই বিশাল আয়োজনের দায়িত্ব নিয়ে সবকিছু তৈরি করেছে তাঁর ছেলে প্রসেনজিৎ।

    বাবার মুখে নিজের প্রশংসা শুনেই অবশ্য বিনীতভাবে আপত্তি জানালেন প্রসেনজিৎ। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, “না না না, আমরা সকলে মিলে করেছি।” অর্থাৎ মহানায়ককে ঘিরে এই উদযাপনের সমস্ত কৃতিত্ব একা নিজের কাঁধে নিতে নারাজ তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই আয়োজন সম্ভব হয়েছে অনেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।

    বিশ্বজিৎ অবশ্য ছেলের প্রশংসা করতে পিছপা হননি। তাঁর চোখে, এত বড় কর্মযজ্ঞের নেতৃত্ব দেওয়া এবং উত্তম কুমারকে এমনভাবে স্মরণ করার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার। বাবা-ছেলের এই ছোট্ট কথোপকথনও অনুষ্ঠানের আবেগঘন মুহূর্তগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠে।

    মহানায়ক উত্তম কুমার বাঙালির কাছে শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি একটি আবেগ, একটি যুগের নাম। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দার উপস্থিতি আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে। তাই সময় পেরোলেও তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বরং নতুন প্রজন্মের কাছেও বারবার ফিরে আসেন তিনি। আর সেই কারণেই সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ সন্ধ্যা যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, মহানায়ক ছিলেন, আছেন, থাকবেন।
  • Link to this news (আজকাল)