• ট্রাক থেকে তোলাবাজি কাণ্ডে ট্রাফিক গার্ড কর্মীদের যোগ? তদন্তে নয়া তথ্য
    বর্তমান | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুলিশ সহ বিভিন্ন জেলার ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ কর্মীদের হয়ে টাকা তুলত ডজনখানেক অপারেটর। তদন্তে নেমে এমনই তথ্য হাতে পেয়েছে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা। বৃহস্পতিবার দালাল সঞ্জীব নন্দীকে গ্রেপ্তারের পর অন্যান্য অপারেটরদের কাউকেই ফোনে পাওয়া যায়নি। সকলের ফোনই বন্ধ। ধৃত সঞ্জীবের মোবাইল ঘেঁটে কলকাতা পুলিশ, বারুইপুর, বিধাননগর, হাওড়ার বিভিন্ন ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত একাধিক পুলিশ কর্মীর নাম ও নম্বর মিলেছে বলে খবর। গাড়ি ছাড়ানোর জন্য অভিযুক্ত বিভিন্ন অফিসারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করত বলে জানা যাচ্ছে।

    টাকা দিলেই কলকাতা সহ জেলার বিভিন্ন রাস্তায় নো এন্ট্রিতে মিলত ট্রাক চলাচলের ছাড়পত্র। সেক্ষেত্রে কোনো জরিমানাও দিতে হত না চালকদের। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সঞ্জীবকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এই নেটওয়ার্ক বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। এর পিছনে একাধিক সিন্ডিকেট কাজ করছে। কলকাতা ও লাগোয়া জেলায় এখনও পর্যন্ত এই ধরনের নেটওয়ার্কে যুক্ত ডজনখানেক অপারেটরের হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। যারা বিভিন্ন পুলিশ অফিসারের হয়ে কাজ করে। প্রতি বছর ওই ‘পারমিটের’ অঙ্ক একশো থেকে দেড়শো টাকা বাড়ে। অফিসারদের ফোন নম্বর প্রত্যেকের কাছে রয়েছে। কোনো রাস্তায় ট্রাক আটকালে অপারেটরা সরাসরি ফোন করত সার্জেন্ট বা ইনসপেক্টরদের। অভিযুক্ত নিজেও অফিসারদের সরাসরি ফোন করত। এমনকি, যে সব পুলিশ কর্মী অবৈধ কারবারে জড়াতে চাননি, তাঁদের সিন্ডিকেটে আসার জন্য বারবার চাপ দিত অপারেটরা। দুর্নীতিতে জড়িত পুলিশ কর্মীরা ট্রাফিক গার্ডে রীতিমতো মৌরসিপাট্টা গড়ে তুলেছেন বলে খবর। যে কারণে বদলি হলেও অল্পদিনের মধ্যেই তাঁরা ফিরে আসতেন আগের জায়গায়। অভিযোগ, যাঁরা এই চক্রে ঢুকতে চাইতেন না, তাঁদের গুরুত্বহীন জায়গায় বদলি করার জন্য তদ্বির করত দুর্নীতিগ্রস্তরা। যাতে কোনোভাবে বেআইনি কারবার বাইরে ফাঁস না হয়।

    সূত্রের খবর, এক গার্ডের অফিসাররা অন্য গার্ডে বদলি হলে তাঁর হাতে থাকা ‘মাসোহারা লাইসেন্স’ অপারেটদের মাধ্যমে বিক্রি করেন নতুনদের। লক্ষ লক্ষ টাকায় এই ‘মান্থলি’ বিক্রি হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, এই সমস্ত অপারেটররা দুর্নীতির টাকা নগদে দিয়ে আসত অফিসারদের কাছে। যে সব পুলিশকর্মী এই সিন্ডিকেটে জড়িত, তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হবে বলে খবর। 
  • Link to this news (বর্তমান)