• ইসরো-নাসার উপগ্রহে তোলা ছবিতে ধরা  পড়ে নেপাল পর্বতের হিমবাহের পরিবর্তন, রিপোর্ট প্রকাশ মার্কিন গবেষকের
    বর্তমান | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই। শ্রীহরিকোটা থেকে ইসরোর রকেটে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল ভারত ও আমেরিকার (ইসরো-নাসা) যৌথ উদ্যোগে তৈরি উপগ্রহ ‘নিসার’ (নাসা ইসরো সিন্থেটিক অ্যাপারাচার রেডার)। সেই উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি ব্যবহার করে নেপালের হিমবাহ ধসের বহু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন আমেরিকার ডালাসের সাদার্ন মেথডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জিন উ কিম। ওই উপগ্রহ থেকে জানুয়ারি থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ল্যাংটাং লিরুং পর্বতের ওই হিমবাহের একাধিক তোলা ছবি বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। দেখা যাচ্ছে, গত ২৬ আগস্টের বিপর্যয়ের অনেক আগে থেকে ওই হিমবাহটিতে প্রচুর পরিবর্তন হতে শুরু করেছিল। হিমবাহটির বরফ ও পাথর সমান্তরালভাবে কয়েকশো মিটার নেমে এসেছিল। এটা হিমবাহটির সম্ভাব্য ভেঙে পড়া, তুষারধসের ইঙ্গিত করেছিল। হিমবাহ ও লাগোয়া পাথরের ঢালের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। হিমবাহটিতে যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, তার প্রমাণ মিলেছে নিসার থেকে তোলা ছবি থেকে।

    আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকের এই রিপোর্ট বিশ্লেষণ করেছেন জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (জিএসআই) অবসরপ্রাপ্ত ডিরেক্টর ভূ-পদার্থবিদ শিখেন্দ্র দে। তিনি জানিয়েছেন, নিসার অত্যন্ত উন্নতমানের একটি উপগ্রহ। এতে দু’টি উন্নতমানের ‘সেন্সর’ আছে। তার মধ্যে এল ব্যান্ডের সেন্সরটি আমেরিকা ও এস ব্যান্ডের সেন্সরটি ভারতের তৈরি। উন্নতমানের সেন্সর হওয়ার জন্য আকাশে ঘন মেঘ থাকলে বা রাতের অন্ধকারেও পৃথিবীর সূক্ষ্ম ছবি তুলতে পারে এটি। পৃথিবীর বনাঞ্চল ও পর্বতের বরফ-পাথরের গতিবিধির উপর নজর রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি ‘পাবলিক ডোমেনে’ আসার পর গবেষণামূলক কাজে তা ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচিত, এই ধরনের উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি ব্যবহার করে হিমবাহ ও তার লাগোয়া এলাকার পরিবর্তনের উপর নজর রাখা। 
  • Link to this news (বর্তমান)