বাড়িতে কাজ করতে এলে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা, ধৃত বিজেপির যুবনেতা
বর্তমান | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মা’ বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। পরিবর্তে বাড়িতে কাজ করতে এসেছিল ষোলো বছরের এক কিশোরী। সেই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা! সুযোগ বুঝে তাকে শোওয়ার ঘরে ডেকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে রকেট গতিতে। তাতেই পর্দা ফাঁস। এমন অভব্য কীর্তিতে নাম জড়ায় বীরভূম জেলা বিজেপির এক প্রভাবশালী যুবনেতার। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সাঁইথিয়া থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। দল থেকে পত্রপাঠ বহিষ্কারও করা হয়েছে ওই কীর্তিমান নেতাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম অরূপ মণ্ডল। তিনি বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার সহ-সভাপতি। বাড়ি সাঁইথিয়া থানা এলাকার আহমদপুরে। শুক্রবার ধৃতকে সিউড়ি আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে পাঁচদিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা ওই নাবালিকার মা বিগত ছ’বছর ধরে অরূপের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। গত ক’দিন ধরে তিনি অসুস্থ। মায়ের পরিবর্তে ওই কিশোরী কাজে আসছিল। পরিবারের অভিযোগ, কাজে যাওয়ার পর থেকেই তাঁদের মেয়েকে উদ্দেশ্যে করে কুপ্রস্তাব ও অশালীন ইঙ্গিত দিচ্ছিল অভিযুক্ত নেতা। গত ৩০ আগস্ট চরম ঘটনাটি ঘটে। নাবালিকার মা জানান, মেয়ে আগে থেকেই ওই নেতার অসৎ উদ্দেশ্য আঁচ করতে পেরেছিল। তাই বিপদের আশঙ্কায় ঘটনার দিন সে নিজের এক সঙ্গীকে লুকিয়ে নিয়ে যায়। ওইদিন অরূপ বাড়ি ফাঁকা পেয়ে নাবালিকাকে নিজের শোওয়ার ঘরে ডাকে। তার ওপর জোরজবরদস্তি শুরু করে। ঠিক সেই সময়েই লুকিয়ে থাকা নাবালিকার ওই সঙ্গী গোটা ঘটনার ভিডিও নিজের মোবাইলে রেকর্ড করে নেয়। ভিডিও’তে দেখা গিয়েছে, খালি গায়ে ও হাফ প্যান্ট পরে রয়েছেন অভিযুক্ত নেতা। জোরপূর্বক ওই কিশোরীর সম্মানহানির চেষ্টা করছেন। সে নিজেকে বাঁচাতে আপ্রাণ লড়াই করছে।
অভিযুক্ত অরূপ এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী। তাই প্রথমে ভয়ে মুখ খুলতে চায়নি নির্যাতিতার পরিবার। পরে সাহস করে ঘটনার দু’দিন পর সাঁইথিয়া থানার দ্বারস্থ হন তাঁরা। অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ঘটনার ওই ভিডিওটি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অভিযোগ পেয়েই পদক্ষেপ করে পুলিশ। সরকারি আইনজীবী বিকাশ পৈতণ্ডি জানিয়েছেন, ঘরে একা পেয়ে এক নাবালিকাকে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সাঁইথিয়া থানার পুলিশ পকসো আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। আপাতত তাকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর অরূপকে ফের আদালতে তোলা হবে। অন্যদিকে, ধৃত বিজেপি নেতা আদালতে দাবি করেন, ‘আমি এই ধরনের কোনও ভিডিও দেখিনি। এ বিষয়ে কিছু জানি না। দলেরই একটি বিরোধী গোষ্ঠীর চক্রান্তের শিকার হয়েছি আমি।’ পরক্ষণেই সুর বদলে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল, সিপিএম এবং বিজেপির একাংশ ককটেল করে আমার বিরুদ্ধে এই নোংরা ষড়যন্ত্র করেছে।’
গোটা ঘটনায় অস্বস্তিতে এড়াতে অরূপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি। দলের বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই দল থেকে দু’বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমাদের দল অত্যন্ত স্বচ্ছ। এ ধরনের জঘন্য কুকীর্তি কোনোভাবেই দল বরদাস্ত করে না। তিনি আরও জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই অরূপের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ উঠছিল। যুব মোর্চার সভাপতি তাঁকে আগেই বহিষ্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।’