নয়াদিল্লি: যন্তর মন্তরে ককরোচ পার্টির বিক্ষোভের সময় আক্রান্ত হয়েছিলেন স্কুলছাত্রী নিশু আজাদের বাবা সঞ্জয় কুমার। তাঁকে মেরে মাথার খুলি ফাটিয়ে দেওয়ার দাবি করেছিলেন স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামে স্বঘোষিত ‘গোরক্ষক’ ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। এরপরই স্বতন্ত্রকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারির দাবিতে শুক্রবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা ঘেরাও করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। যোগ দেন আজাদ সমাজ পার্টির প্রধান তথা সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদও। সৌরভ বলেন, ‘স্বতন্ত্রর মতো গুন্ডারা যন্তর মন্তরে এসেছিল। এদের কি দিল্লি পুলিশ চিহ্নিত করতে পারেনি?’ সিজেপি জানিয়েছে, পুলিশ তাদের আশ্বাস দিয়েছে যে, স্বতন্ত্রর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা ও তপশিলি জাতি-উপজাতি আইনেও মামলা দায়ের হচ্ছে। এছাড়া নিশুর নামে অনলাইনে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগে আলাদা মামলাও দায়ের হবে। যদিও মেডিকেল রিপোর্ট দেখিয়ে দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, সঞ্জয় কুমারের মাথায় সাধারণ চোট লেগেছিল। খুলি ফাটেনি। তবে সিজেপি জানিয়ে দেয়, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দিল্লি পুলিশকে এবিষয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। তা না হলে ফের আন্দোলন হবে। এরপরই তৎপর হয় দিল্লি পুলিশ। সূত্রের খবর, স্বতন্ত্রকে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর থেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এরই মধ্যে শোরগোল শুরু হতেই স্বতন্ত্র দাবি করেছেন, তিনি মজা করে ওই সব কথা পডকাস্টে বলেছিলেন। নিজেকে বাঁচাতেই লোহার বালা দিয়ে নিশুর বাবার মাথায় মেরেছিলেন। ফের যদি উত্তেজিত জনতায ঘিরে ফেলে তাহলে ফের এমন মারধর করবেন। ওই পডকাস্টে স্বতন্ত্র বলেছেন, ‘ওঁর (নিশুর বাবা) মাথায় ৬০টি সেলাই করতে হয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল। ওঁর মেয়ে থানার সামনে কাঁদতে কাঁদতে বলছিল যে বাবা বিচার না পেলে আত্মহত্যা করবে। কিন্তু আমার উপর হনুমানজির আশীর্বাদ রয়েছে! আর কপিল মিশ্র তো (দিল্লির বিজেপি মন্ত্রী) আমার দাদা। কপিল মিশ্র ফোন করায় আমায় ছেড়ে দেওয়া হয়। চিরাগ পাসোয়ান (কেন্দ্রীয় মন্ত্রী) আমার দাদা। আপনি মোদিজিকে চেনেন? মোদিজিও আমার দাদা। আমার উপর সকলের সমর্থন রয়েছে!’ যা নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা কটাক্ষ করেছেন, ‘জেন-জি’দের কাছে পৌঁছানোর জন্য স্বতন্ত্র ভরদ্বাজই কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিনিধি?’ আর নিশুর বক্তব্য, ‘অনলাইনে ধর্ষণের হুমকি পেয়ে বাড়ির বাইরে বেরতে পারছিলাম না। কয়েক সপ্তাহ স্কুলে যেতে পারিনি। আশা করি, পুলিশ এবার ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশকে ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলাম। তবে আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই ওরা স্বতন্ত্রকে আটক করেছে। এটা জয়ের প্রথম পদক্ষেপ।’ এরমধ্যেই স্বতন্ত্রর বিরুদ্ধে চিরাগের নাম অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে থানায় এফআইআর দায়ের করেছে লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)। তারা জানিয়েছে, অভিযুক্তের সঙ্গে দল বা পার্টির প্রধান চিরাগের কোনো সম্পর্ক নেই। এদিন এ ঘটনায় সরব হয়েছে কংগ্রেসও। মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী অলকা লাম্বার অভিযোগ, স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামে যে ব্যক্তি নিশুদের হুমকি দিচ্ছে, সে নিজেই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছে বিজেপির নেতারা তার ‘বড়ো ভাই।’ ফলে কাদের প্রশয়ে এইসব দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব করার সাহস পায় তা স্পষ্ট। নিশু আজাদ দলিত। তারপরেও পুলিশ নির্দিষ্ট আইনে কেন কোনো মামলা দায়ের করছে না? কেন গ্রেপ্তার করা হবে না স্বতন্ত্রকে? স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। ফাইল চিত্র