এই সময়, ফরাক্কা: আপ লাইনের প্রায় ৮০ মিটার অংশ এক–দু'মিটার বসে যাওয়ার জেরে বৃহস্পতিবারই একাধিক ট্রেন ক্যান্সেল হয়েছিল। শুক্রবার দিনভর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ চললেও ফের রেললাইনে ধস নামল ফরাক্কায়। ফলে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এ দিন স্টেশনে আটকে পড়া যাত্রীদের শুকনো খাবার ও জল বিলি করে প্রশাসন।
ধসের অভিঘাত কতটা বিস্তৃত, তার ছবি মিলেছে ট্রেন বাতিলের তালিকাতেই। রেল সূত্রে খবর, টানা বৃষ্টি এবং সংলগ্ন জলাশয় থেকে ভূগর্ভস্থ জলের চ্যানেল তৈরি হয়ে মাটি নরম হয়ে যাওয়াতেই ধস। মেরামতির কাজে প্রায় ১৫০ শ্রমিককে কাজে নামানো হয়। আপ লাইনে ১০টি ওয়াগনে স্টোন ডাস্ট এনে ধসে যাওয়া অংশ ভরাট, মাটি পরীক্ষা এবং পাইলিং করা হয়। ডাউন লাইনেও পাওয়ার ব্লক নিয়ে কাজ হয়। এ দিন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে। তিনি বলেন, 'এটি রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটি নয়, প্রাকৃতিক কারণে ধস নেমেছে।' বর্ষা মিটলে জলাশয় সংলগ্ন রেলপথের মাটি নিয়ে আইআইটি-র গবেষণার সাহায্যে এআই নির্ভর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন পূর্ব রেলের জিএম।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, 'নতুন করে ধস না নামলে শুক্রবার রাতের মধ্যে রেললাইন মেরামতির কাজ শেষ হয়ে যাবে। আশা করছি, শনিবার সকাল থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে শনিবার বেশ কয়েকটি ডাউন ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। কারণ গোলযোগের কারণে ওই ট্রেনগুলি আপ-এ আসতে পারেনি।'
এ দিন নিউ ফরাক্কা স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়েন বহু দূরপাল্লার যাত্রী। তার মধ্যে শিশু ও মহিলারাও রয়েছেন। কামাখ্যা-পুরী এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ দিন সল্টলেকে জলসম্পদ ভবনে বলেন, 'মুর্শিদাবাদ এবং মালদা জেলায় আটকে থাকা ট্রেনগুলির যাত্রীদের ফুড প্যাকেট এবং পানীয় জল দেওয়া হচ্ছে। মালদা এবং মুর্শিদাবাদের ডিএমকে আগেই বলে দিয়েছি যে, রাতের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি সরকারি ব্যবস্থা না থাকে, তা হলে হোটেল-লজ ভাড়া করে তাঁদের রাখা হবে। ওই যাত্রীদের কোনও অর্থ খরচ করতে হবে না।' মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়েই এ দিন ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী নিজে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের জন্য পানীয় জল, পাউরুটি, বিস্কুট ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেন। গন্তব্য অনুযায়ী যাত্রীদের বাসে করে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।
এ দিন ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন পরিদর্শনে যান উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুও। তিনি বলেন, 'অতিবৃষ্টির ফলে আপ রেললাইনটি পুরোপুরি বসে গিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।'
শনিবার যে যে ট্রেন চলবে না