এই সময়: ভারী বৃষ্টির বিপর্যয় থামছেই না! বেড়ে চলেছে বন্যা-হড়পা বানের আশঙ্কাও। শুক্রবারও একটানা বৃষ্টিতে নাকাল হলো ভারতের একটা বড় অংশ। যার জেরে বন্যা, হড়পা বা বানভাসি পরিস্থিতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে দেশের ২০টি রাজ্যে। মৌসম ভবনের তথ্য বলছে, এ দিন বৃষ্টিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রদেশ, সেখানে কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের দক্ষিণ-সহ রাজস্থানের একাধিক এলাকাতেও আগামী দু’দিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস জারি হয়েছে।
শুক্রবার মধ্যপ্রদেশে ১১৫ থেকে ২০৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়। রাজ্যের উত্তর ও পশ্চিমের জেলাগুলিতে আচমকা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয় প্রশাসনের তরফে। উত্তরপ্রদেশ ও পূর্ব রাজস্থানের বেশ কিছু জায়গাতেও ভারী বৃষ্টি দেখা যায়। উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি ও ললিতপুর-সহ বেশ কয়েকটি এলাকাকে বন্যা পরিস্থিতির জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পূর্ব রাজস্থানের ঝালওয়ার, বুন্দি, কোটা-সহ বেশ কয়েকটি এলাকাতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শুক্রবার বজ্রবিদ্যুৎ, ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ১১৫ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে বিহার, ঝাড়খণ্ডেও। অন্য দিকে, অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মিজ়োরাম-সহ উত্তর–পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যেও শুক্রবার মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয় বলে খবর। ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টিপাত হয়েছে তেলঙ্গানা, তামিলনাড়ু ও কর্নাটকের বেশ কিছু এলাকায়।
নাজেহাল অবস্থা দিল্লিরও। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে দিল্লি এবং এনসিআর এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় লাল সতর্কতা জারি করে মৌসম ভবন। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় পালামে (প্রায় ৭২ মিমি)। তা ছাড়াও লোধি রোড, সফদরজং, জনকপুর-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভারী বর্ষণে রাস্তায় জল জমে তৈরি হয় যানজট। ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতেই জল জমে বেহাল পরিস্থিতি হয় দিল্লি বিমানবন্দরেরও। এন্ট্র্যান্স ও অ্যাপ্রোচ রোড ভেসে যায় জলে। খারাপ আবহাওয়ার জেরে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লখনৌ ও আমেদাবাদে ডাইভার্ট করা হয় ন’টি উড়ান।