• ধরা পড়তেই পাল্টে গেল ‘নাগরিকত্ব’, বনগাঁ নিউ মার্কেটে নেই ‘বাংলাদেশি’ ইলিশ
    এই সময় | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আশিস নন্দী

    দেশি ইলিশের গায়ে বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে চলছিল ঢালাও বিজ্ঞাপন। চড়া দামে বিক্রিও হয়ে যাচ্ছিল। খবর শুনে দূরদূরান্ত থেকে এসে হাজির হচ্ছিলেন ক্রেতারা। গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে বাড়ি নেওয়ার পরে পর্দাফাঁস। ঝোল-অম্বল কিংবা সর্ষের সঙ্গতেও খোলতাই হচ্ছিল না ইলিশের স্বাদ-গন্ধ। কারণ বনগাঁর নিউ মার্কেটে আদতে বাংলাদেশের ইলিশ বলে বিক্রি করা হচ্ছিল ওডিশা, মহারাষ্ট্র বা গুজরাটের ইলিশ। এই সময় সর্বপ্রথম এই খবর প্রকাশ করে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভোল বদলে গেল বনগাঁর নিউ মার্কেটে। শুক্রবার দেখা গেল ইলিশ রয়েছে, কিন্তু তার ‘নাগরিকত্ব’ পাল্টে গিয়েছে। বাংলাদেশি নয়, ভারতীয় ইলিশ পরিচয়েই বিক্রি করা হচ্ছে। দামও পড়েছে অনেকটা।

    বাংলাদেশের ইলিশের প্রতি ভোজন রসিক বাঙালির দুর্বলতা রয়েছে। সেটাকে পুঁজি করেই বনগাঁ নিউ মার্কেটে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। বাজারে হাঁকডাঁক করে প্রচার তো হতোই, সোশ্যাল মিডিয়াতেও চলতো প্রচার। দেশের ইলিশ মাছকে বাংলাদেশের ইলিশ বলে বিক্রি করতেন। কেজিতে ২২০০-৩০০০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠে যাচ্ছিল। পদ্মার ইলিশ ভেবে টাকা খরচ করতে দুইবার ভাবতেন না অনেকেই।

    ২০২৫ সালে দুর্গাপুজোর আগে ভারতে বাংলাদেশের ইলিশ ঢুকেছিল। সেটাই শেষ বার। এরপর আর কোনও ইলিশ ওদেশ থেকে আসেনি। বনগাঁর নিউ মার্কেটে আসা এক ক্রেতা দীপঙ্কর সাঁতরা বলেন, ‘এই কয়েক দিন তো বাংলাদেশের ইলিশ বলে মাছ বিক্রেতাদের চিৎকারে কান পাতা দায় হয়ে উঠেছিল। আমিও ওদের কথায় ভরসা করে একটা ইলিশ মাছ কিনেছিলাম। কিন্তু খাওয়ার সময় বুঝলাম ঠকেছি।’

    হিলশা ফিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য গৌতম সাহা বলেন, ‘গত বছরের পর আর কোনও বাংলাদেশের ইলিশ এদেশে আসেনি। সেই ইলিশ এক বছর পরে বনগাঁর কোনও ব্যবসায়ীর কাছে থাকতে পারে না। এ দিন কেউ আর দেশের ইলিশকে বাংলাদেশের বলে বিক্রি করেননি।’

  • Link to this news (এই সময়)