এই সময়: বিভিন্ন গোষ্ঠীতে ভেঙে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে জোড়ার চেষ্টার বদলে বিজেপির মধ্যেই ফাটল ধরানোর কৌশল নিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভ করে তিনি নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের সতর্ক করেন বঙ্গ–বিজেপির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে। মোদী–শাহকে হুঁশিয়ারি দিতেও ছাড়েননি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি দিল্লিতে জেন জি় আন্দোলন কিছুটা হলেও চাপে ফেলেছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। সে কথা মনে করিয়ে ফেসবুক লাইভ থেকে মমতার হুঁশিয়ারি, ‘(আপনারা) জেন জি় আন্দোলন দেখেছেন। ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন দেখেননি। আপনারা ছাত্র আন্দোলন দেখেননি। অপেক্ষা করুন, সব দেখবেন। প্রয়োজন পড়লে বাংলা থেকে দিল্লি পর্যন্ত আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করব।’ এরপরেই তিনি বলেন, ‘বাংলায় অত্যাচার বন্ধ না হলে বিজেপি নেতাদের বাড়ির বাইরে গিয়ে ধর্নায় বসে যাব।’
যদিও তৃণমূলনেত্রীর এই বার্তাকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন বিজেপি নেতৃত্ব। মমতাকে ছবি আর কবিতায় মন দেওয়ার পরামর্শই দিয়েছেন তাঁরা। বঙ্গ–বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘এত চিন্তা নিয়ে উনি রাতে ঘুমোতে পারেন? এখন তো অখণ্ড অবসর। ছবি আঁকুন, কবিতা লিখুন। জীবনে আর যা যা করেননি, সেগুলি করুন। এ সব কথা বলছেন কেন? কেউ শুনছেন না। প্রধানমন্ত্রী থেকে পাড়ার পাঁচু কেউ শুনছেন না। কারও এত সময় নেই।’ রাজ্যের এক মন্ত্রীর কথায়, ‘বিজেপির স্ট্রাকচার নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভাবতে হবে না। উনি বরং ভাবুন, তৃণমূলের প্রতীক নিজের দখলে রাখতে পারবেন কি না।’
গত ৪ মে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে একাধিকবার বিজেপিকে হুমকি, হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা। কিন্তু বাংলায় ‘সত্যিকারের বিজেপি কর্মী’রা কী ভাবে গেরুয়া ব্রিগেড থেকে অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তা নিয়ে মোদী–শাহকে এ দিন প্রথমবার ওয়াকিবহাল করার চেষ্টা করলেন মমতা। ফেসবুক লাইভ থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘আমি জানি না, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলায় কী চলছে সে সব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কি না। কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়ে লুম্পেনদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। মাঝখান থেকে বিজেপির নিজস্ব পরিকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। এবং আপনাদের সত্যিকারের বিজেপি কর্মীরাও দূরে সরে যাচ্ছেন।’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘আপনারা নিজেদের জমি হারাচ্ছেন। আমি শুধু নিজের দলের কথা বলছি না। আপনার দলের কথাও বলছি।’ মোদী–শাহদের উদ্দেশে মমতার প্রশ্ন, ‘আপনাদের পার্টির কী অবস্থা, সেটা কি জানেন? যাঁদের উপরে দায়িত্ব দিয়েছেন, তাঁরা কী জুলুম করছেন, আপনারা জানেন?’ মমতার দাবি, ‘দেশের কোথাও এ রকম জুলুম হয়নি, যে জুলুম বাংলায় হয়েছে। আমাদের চার হাজার পার্টি অফিস লুট হয়ে গিয়েছে। আমাকে ঘর থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। এর খেসারত আপনাদেরই চোকাতে হবে, যখন আপনাদের পার্টি ভেঙে যাবে।’