এই সময়: ট্রেন বা স্টেশন চত্বরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা রেলের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। মঙ্গলবার এমনটাই রায় দিল কেরালা হাইকোর্ট। রেলওয়ে আইনের ১৪৫(এ) ধারার সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রেখে আদালত এ দিন জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য এবং রেল চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এই বিধান প্রয়োজনীয়। বিচারপতি বেচু কুরিয়ান থমাসের বেঞ্চ এই সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন খারিজ করেছে।
রেলের এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন একটি বেসরকারি পর্যটন সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর। তাঁর বক্তব্য ছিল, আইনে ‘নেশাগ্রস্ত অবস্থা’-র কোনও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। ফলে রেল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছামতো কাউকে এ ভাবে চিহ্নিত করতে পারে। নেশা করে রেল চত্বরে থাকা ব্যক্তিকে তখনই সরানো যাবে, যখন তিনি গোলমাল বা অন্য কোনও অপরাধমূলক আচরণ করছেন—এমন নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছিল ওই মামলায়।
আবেদনকারী জানান, দক্ষিণ রেলে নেশাগ্রস্ত যাত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার খবর পাওয়ার পরেই তিনি বিষয়টি নিয়ে আদালতে যান। সন্দেহ হলে কোনও যাত্রী নেশাগ্রস্ত কি না তা পরীক্ষা করার জন্য রেলরক্ষী বাহিনীর (আরপিএফ) কর্মীদের ব্রেথ অ্যানালাইজারও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন।
শুনানিতে রেলের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং রেল চত্বরে অপ্রীতিকর ঘটনা ও অপরাধ ঠেকানো। বিশেষত মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। রেলের দাবি, ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়ার বহু ঘটনাতেই দেখা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
রেল আরও জানায়, ২০২৩–এর ১৪ সেপ্টেম্বর রেল মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকায় কোনও ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত কি না, তা চিহ্নিত করার নির্দিষ্ট পদ্ধতিও রয়েছে। প্রথমে ব্রেথ অ্যানালাইজারের মাধ্যমে সন্দেহভাজনের পরীক্ষা করা হবে। এর পর প্রয়োজনে তাঁকে রেল চত্বর থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মেডিক্যাল পরীক্ষা হবে। প্রয়োজন হলে তার পরেই ফৌজদারি মামলা শুরু করা যাবে।
আদালতও ২০২৩–এর ওই নির্দেশিকা খতিয়ে দেখে জানায়, নেশাগ্রস্ততার বিভিন্ন লক্ষণ শনাক্ত করার পদ্ধতি তাতে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আদালতের মতে, প্রাথমিক ভাবে নেশাগ্রস্ত বলে মনে হলেই ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়া যায়। সেই পর্যায়ে রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা বাস্তবে সমস্যাজনক। কারণ রেল কামরা বা চত্বরে রক্ত পরীক্ষা করে তার ফল পেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
আদালত স্পষ্ট করে, প্রয়োগের সম্ভাব্য অপব্যবহারের কারণে মূল আইনটিকেই অসাংবিধানিক বলা যায় না। সেই যুক্তিতেই ১৪৫(এ) ধারাকে বৈধ ঘোষণা করে আবেদনটি খারিজ করেছে কেরালা হাই কোর্ট।