রাস্তা দিয়ে চলেছেন পুণ্যার্থীরা। কারও কাঁধে সুদৃশ্য বাঁক, কারও হাতে কলস। গন্তব্য চাকলা ধাম। কেউ চলেছেন পায়ে হেঁটে, কেউ আবার বাইক-ম্যাটাডরে সওয়ার। জন্মাষ্টমী (Janmashtami) উপলক্ষে চাকলা ধামের (Chakla lokenath dham) উদ্দেশে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে। বারাসতের কাছে রাস্তার মাঝে ভিড়ের মধ্যেই নজর কাড়ল একটি বাঁক। LED লাইট আর ঝুড়ি দিয়ে তৈরি নজরকাড়া ওই বাঁকের ঝুড়িতে কম্বল মুড়ে শুয়ে একরত্তি। চাকলা ধামের যাত্রী সে-ও। কী ব্যাপার?
এই সময় অনলাইন খোঁজ নিতেই সামনে এল চমক। বাবা কাঁধে করে বইছেন ওই বাঁক, ঝুড়িতে শুয়ে তাঁরই ৬ মাসের সন্তান। দত্তপুকুর থেকে হেঁটে আসছেন তিনি, রয়েছেন একাধিক সঙ্গী। এত ভিড়ের মাঝে একরত্তি সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছেন কেন? এই সময় অনলাইনকে ওই শিশুর বাবা সৌরভ বিশ্বাস বললেন, ‘আমার প্রথম সন্তান। মানসিক করেছিলাম। ও যখন মায়ের পেটে ছিল, তখনই করেছিলাম। তাই বাবার কাছে নিয়ে যাচ্ছি।’
দত্তপুকুর থেকে চাকলা (Lokenath Mandir chakla) যাচ্ছেন তাঁরা। মোট ২৮ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিচ্ছেন? কেমন লাগছে এই অভিজ্ঞতা? হাসিমুখে তাঁর জবাব, ‘খুব ভালো মনে হচ্ছে। ভাই-সঙ্গীরা রয়েছে। আমার একার দ্বারা হবে না। ওরা সঙ্গে রয়েছে বলেই হচ্ছে।’
কথিত রয়েছে, শ্রবণ কুমার তাঁর অন্ধ বাবা-মাকে বাঁকে বসিয়ে কাঁধে করে তীর্থযাত্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন। বাবা-মায়ের ইচ্ছাপূরণের জন্য শ্রবণের এই কাজ পিতৃ-মাতৃভক্তির নিদর্শন বলে মানা হয়। আর এখানে সন্তান স্নেহ এবং দেবভক্তি মিলে মিশে একাকার।
১. চাকলা ধামে কেন পুণ্যার্থীদের ভিড় হয়েছে?
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে চাকলা ধামের উদ্দেশে বহু পুণ্যার্থী রওনা দিয়েছেন। কেউ পায়ে হেঁটে, আবার কেউ বাইক বা ম্যাটাডরে করে সেখানে যাচ্ছেন।
২. বারাসতের কাছে যে বাঁকটি নজর কেড়েছিল, তাতে কী ছিল?
LED লাইট ও ঝুড়ি দিয়ে সাজানো ওই বাঁকের ঝুড়িতে কম্বল মুড়ে শুয়ে ছিল একটি ৬ মাসের শিশু।
৩. শিশুটিকে বাঁকে করে কে নিয়ে যাচ্ছিলেন?
শিশুটির বাবা নিজের কাঁধে করে বাঁকটি বইছিলেন। তিনি দত্তপুকুর থেকে হেঁটে চাকলা ধামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
৪. শিশুটির বাবা কেন তাঁকে চাকলা ধামে নিয়ে যাচ্ছেন?
শিশুটির বাবা জানিয়েছেন, এটি তাঁর প্রথম সন্তান। সন্তান মায়ের গর্ভে থাকার সময়ই তিনি চাকলা ধামে নিয়ে যাওয়ার মানত করেছিলেন। সেই মানত পূরণ করতেই শিশুটিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
৫. তাঁরা কোথা থেকে চাকলা ধামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন?
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তাঁরা দত্তপুকুর থেকে পায়ে হেঁটে চাকলা ধামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
৬. মোট কতটা পথ পায়ে হাঁটতে হচ্ছে?
দত্তপুকুর থেকে চাকলা ধাম পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার পথ তাঁরা পায়ে হেঁটে পাড়ি দিচ্ছেন।
৭. শিশুর বাবা একাই কি এই যাত্রা করছেন?
না। তাঁর সঙ্গে একাধিক ভাই ও সঙ্গী রয়েছেন। শিশুটির বাবা জানিয়েছেন, তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এতটা পথ যাত্রা করা তাঁর একার পক্ষে সম্ভব হত না।