দামোদরের উচ্চ অববাহিকায় প্রবল বর্ষণ। DVC-র দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে দফায় দফায় জল ছাড়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে দামোদর নদ। এ দিন দুপুর ১টা পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ১ লক্ষ ৪২ হাজার ২০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি তীব্র স্রোত তৈরি হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের দামোদর নদে থাকা নৌকা চলাচলের একাধিক ফেরিঘাট।
বছরের অধিকাংশ সময়ে দামোদরের বুকে ধূ-ধূ বালির চর আর শান্ত জলধারা দেখা গেলেও, বর্ষা এলেই ডিভিসির ছাড়া জলে ফুলে ফেঁপে উঠে দামোদর নদ। রায়না, জামালপুর এবং বর্ধমান সদর ২ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশের অন্যতম সংযোগকারী মাধ্যম শম্ভুপুর ফেরিঘাট। সদরঘাটের ‘কৃষক সেতু’ এবং জামালপুরের ‘হরেকৃষ্ণ সেতু’র মধ্যে দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। তাই দক্ষিণ দামোদরের নতু, হরিপুর, জামুদহ, বোরো, বালাগড় কিংবা মধুবনের মতো একাধিক গ্রামের মানুষের কাছে কম সময়ে যাতায়াতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাট।
ফেরিঘাট দিয়ে নৌকা চলাচল বন্ধ হওয়ার সমস্যায় পড়েছেন দামোদর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ফেরিঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এলাকার মানুষদের চিকিৎসা, পড়াশোনা বাজার-হাট বা দৈনন্দিন কাজে যাতায়াত করতে হচ্ছে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে। ফলে যাতায়াতের সময় ও খরচ উভয়ই বেড়ে গিয়েছে।
ডিভিসির জল ছাড়ার কারণে মুণ্ডেশ্বরী নদীতেও জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে হাওড়া জেলার দ্বীপাঞ্চলের কিছু অংশের মাঠঘাট ডুবতে শুরু করেছে। দামোদরের জলস্তর বাড়ায় উদয়নারায়ণপুরে নদী বাঁধের পাশের চাষের জমি ডুবতে শুরু করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত নদীর জল বাঁধ উপছে গ্রামে ঢোকেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে উদয়নারায়নপুর এলাকা পরিদর্শন করেন হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ্রিয়া। প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বৈঠকও করেন। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।