• বৃষ্টির রেকর্ড গড়ল বোলপুর, কলকাতা রইল দ্বিতীয় স্থানে, আজও রয়েছে দুর্যোগের আশঙ্কা
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: দেদার বৃষ্টি বীরভূমে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর বুধবার সকালে রাজ্যের প্রতিটি ওয়েদার স্টেশনের যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাতে ধরা পড়েছে সোমবার সকাল সাড়ে ছ’টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছ’টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বোলপুরে বৃষ্টি হয়েছে ২৬২.৮ মিমি। পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিয়োরোলজি (আইআইটিএম)–র রেকর্ড বলছে, ১৯৮৯–এর ২৯ জুলাইয়ের পরে একদিনে এত বেশি বৃষ্টি দেখেনি বোলপুর।

    ১৯৭৮–এর ২৭ সেপ্টেম্বর (৩৪১.৮ মিমি), ১৯৮৯–এর ২৯ জুলাইয়ের (২৬৫.৫ মিমি) পরে বীরভূম জেলায় একদিনে সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের তালিকায় নাম তুলে ফেলল ২০২৬–এর ২ সেপ্টেম্বর। এ দিন শ্রীনিকেতন ওয়েদার স্টেশনে ২৬২.৮ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও এই ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে কলকাতায়। মহানগরে বৃষ্টির পরিমাণ ১২৯.৮ মিমি। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকল যথাক্রমে ব্যারাকপুর (১২০ মিমি) এবং আসানসোল (১১৫ মিমি)।

    বাংলা ছেড়ে আপাতত মধ্যপ্রদেশের উপরে অবস্থান করছে সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি। তবে সমুদ্র থেকে অনেকটা দূরে চলে গেলেও এর শক্তিক্ষয় হয়নি। এই কারণেই নিম্নচাপ বাংলা ছাড়লেও রাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু অংশে বৃষ্টির কোনও কমতি নেই বলেই জানাচ্ছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। তিনি বলেন, ‘নিম্নচাপটি বাংলা ছেড়ে প্রথমে বীরভূম সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডের মালভূমি অঞ্চলে আটকে পড়েছিল। এই কারণেই বীরভূমে এত বেশি বৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, সাধারণত কোনও নিম্নচাপ বাংলা ছেড়ে পশ্চিমের দিকে এগিয়ে গেলেও দক্ষিণবঙ্গের উপরে তার একটা প্রভাব থেকে যায়। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তার উপরে নিম্নচাপটি শক্তি না হারানোয় সমুদ্র থেকে জলীয় বাষ্প শোষণ থেমে থাকেনি। তাই দক্ষিণবঙ্গের বিরাট এলাকা জুড়ে বজ্রগর্ভ কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি হয়েছিল। তাই শুধু প্রবল বৃষ্টিই নয়, একই সঙ্গে ভয়াবহ বজ্রপাতও হয়েছে কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়।

    শুধু নিম্নচাপই নয়, একই সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্তও। সেটি এখনও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হেলে রয়েছে। আবহবিদরা আশা করছেন, আজ, বৃহস্পতিবারের মধ্যে এই ঘূর্ণাবর্ত-সহ নিম্নচাপটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়বে। ততক্ষণে সেটি উত্তরপ্রদেশের পশ্চিম অংশে পৌঁছে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    যে মৌসুমি অক্ষরেখাটি সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরে এতদিন নিম্নচাপটির অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলছিল, সেই অক্ষরেখাটি পাঞ্জাবের ভাটিন্ডা, রোহতক, হরদই, কানপুর হয়ে উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশে যেখানে সুস্পষ্ট নিম্নচাপটির কেন্দ্র রয়েছে, তার উপর দিয়ে এগিয়ে দিঘা হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখাও বিস্তৃত রয়েছে।

    একসঙ্গে এতগুলো ওয়েদার সিস্টেমের প্রভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী (৭–১১ সেমি) থেকে অতি ভারী (৭–২০ সেমি) বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও আজ, বৃস্পতিবার বৃষ্টির দাপট বাড়ার সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলিতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)