• ঝাড়গ্রামে মজেছিলেন মহানায়কও, রাজবাড়ির বেকারিতে তৈরি পাউরুটি আর কেক ছিল খুব পছন্দের
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দিগন্ত মান্না

    ১৯৫৮-য় 'মরুতীর্থ হিংলাজ'-এর শুটিংয়ে ঝাড়গ্রামে আসেন মহানায়ক। প্রথম দর্শনেই জঙ্গলমহলের প্রেমে পড়ে যান। তারপরে টানা দু'দশকেরও বেশি সময় অবিভক্ত মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করেছেন। জানা যায়, মহানায়কের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই তখনকার পরিচালকরা জঙ্গলমহল-সহ মেদিনীপুরের নানা জায়গা শুটিং লোকেশন হিসেবে বেছে নিতেন। 'বাঘবন্দী খেলা', 'সন্ন্যাসী রাজা'র মতো সিনেমার প্রাইম লোকেশন ছিল ঝাড়গ্রাম।

    ২০১০-এর ২৮ মে গভীর রাতে ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া এলাকার সরডিহা স্টেশনের অদূরে লাইনচ্যুত হয় জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস। ১৪৮ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। সেই দুর্ঘটনার পরে রাতারাতি সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে সরডিহা স্টেশনের নাম।

    দক্ষিণ-পূর্ব রেলের প্রাচীন রেল স্টেশন এই সরডিহা। পীযূষ বসু পরিচালিত, উত্তমকুমার ও সুপ্রিয়া চৌধুরী অভিনীত 'বাঘবন্দী খেলা'য় (১৯৭৫) এই সরডিহা স্টেশনকে দেখানো হয়েছে 'রানীপুর' নামে একটি স্টেশন হিসেবে। ওই সিনেমার শুটিংয়ে ঝাড়গ্রামে এসেছিলেন উত্তমকুমার, সুপ্রিয়া ও পার্থ মুখোপাধ্যায়। স্টেশন চত্বরে মোট চার দিন শুটিং হয়েছিল। সরডিহা স্টেশনে তখন কোনও ছাউনি ছিল না। প্ল্যাটফর্ম ছিল নিচু। আর ফুট ওভারব্রিজ ছিল জরাজীর্ণ। শুটিংয়ের আগে সেই ব্রিজে চলছিল ওঠা-নামার রিহার্সাল। সে সময়ে সহ অভিনেতা পার্থকে সতর্ক করে মহানায়ক বলেছিলেন, 'পার্থ, সাবধানে নামিস।'

    ওই এলাকার একটি রাস্তায় ও চালকল চত্বরেও একাধিক শট দিয়েছিলেন মহানায়ক। প্রিয় অভিনেতাকে দেখতে সে সময় রোজ ভিড় করতেন জঙ্গলমহলের লোকজন। ১৯৭৪-য় 'সন্ন্যাসী রাজা'র শুটিংয়ে ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে এসেছিলেন উত্তমকুমার। রাজবাড়ির বেশ কিছু জায়গায় শুটিং হয়েছিল। 'রাজবংশ'-র শুটিংয়েও ১৯৭৬-য় ঝাড়গ্রামে এসেছিলেন তিনি। 'সপ্তপদী'তে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিছু দৃশ্য রয়েছে। সেগুলো তোলা হয়েছিল শালবনির পিয়ারডোবায়। 'দুই পুরুষ'-এর বেশ কিছু দৃশ্যের শুটিং হয়েছে ঝাড়গ্রামে।

    ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির শেষ রাজা, তৎকালীন মেদিনীপুর লোকসভার কংগ্রেস সাংসদ রাজাবাহাদুর নরসিংহ মল্লদেব ছিলেন মহানায়কের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বন্ধুর আমন্ত্রণে ষাটের দশকের গোড়ায় প্রথম ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে এসেছিলেন তিনি। তারপরে শুটিংয়ে এলেই উঠতেন রাজবাড়িতে।

    সঙ্গে থাকতেন সুপ্রিয়া চৌধুরী। রাজবাড়ির নিজস্ব বেকারিতে তৈরি পাউরুটি আর কেক খুব পছন্দ করতেন মহানায়ক। রাজবাড়িতে সে সময়ে একটিমাত্র ল্যান্ডফোন ছিল। সেটি থাকত দোতলায়। শুটিং শেষে গেস্ট হাউসে ফিরে ফ্রেশ হয়ে তিনি দোতলায় যেতেন ফোন করার জন্য। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির বর্তমান সদস্য বিক্রমাদিত্য মল্লদেব বলছেন, 'আমাদের পরিবারের সঙ্গে মহানায়কের খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ওঁর আতিথেয়তার দায়িত্বে থাকা লোকজনদের কেউ কেউ এখনও আমাদের বাড়িতে রয়েছেন। তাঁদের মুখে আজও নানা গল্প শুনি। আমরা সত্যিই সৌভাগ্যবান।'

  • Link to this news (এই সময়)