• হাওড়া ব্রিজের সামনেও মৃত্যুফাঁদ, আশ্বাস মন্ত্রীর
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, হাওড়া: একটানা বৃষ্টি এবং দীর্ঘদিন মেরামত না হওয়ায় হাওড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তাতে বৃষ্টির জল জমে থাকায় অনেকেই বুঝতেই পারছে না, রাস্তার কোন জায়গায় গর্ত রয়েছে। তার মধ্যে গাড়ির চাকা আটকে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন অনেকে।

    হাওড়া শহরের সবথেকে ব্যস্ততম এলাকা হাওড়া ব্রিজের সামনেও রাস্তায় বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। তাতে রোজই অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন যান চালকরা। বিশেষ করে ছোট চারচাকা গাড়ি, বাইক ও সাইকেল আরোহীদের জন্য সেটা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গর্তে চাকা আটকে ভারসাম্য হারাচ্ছেন বাইক চালকরা। তার জেরে মাঝে মধ্যেই ওই এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে। সালকিয়া, বেলগাছিয়া, কোনা, শিবপুর, মালিপাঁচঘড়া-সহ শহরের বহু এলাকায় একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন শহরবাসী। বিশেষ করে রাতের দিকে এই সব জায়গা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে।

    হাওড়া ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার বাস, ট্যাক্সি, টোটো-সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। যান চালকরা জানাচ্ছেন, হাওড়া ব্রিজের মুখে রাস্তায় বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় গাড়ির গতি কমাতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। ফলে হাওড়া স্টেশনে ঢোকার মুখে গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলেই এই এলাকায় ব্যাপক যানজট তৈরি হচ্ছে।

    গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওড়া শহরের বহু এলাকায় জল জমে রয়েছে। অনেক বাড়ি, দোকান ও কারখানার ভিতরেও নোংরা জল ঢুকে গিয়েছে। ফলে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তায় জল জমে থাকায় সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়ছেন টোটো চালকরা। এক টোটো চালকের কথায়, 'রাস্তায় এমন গর্ত হয়েছে, তার উপর দিয়ে যেতে গেলে গাড়ি উল্টে যেতে পারে। সেজন্য আমাদের খুব সাবধানে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।'

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষার আগে সাধারণত রাস্তার গর্ত মেরামত করা হয়। কিন্তু এ বার সেই কাজটা হয়নি। অনেক জায়গাতেই পিচ উঠে গিয়ে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও আবার রাস্তা কাটার পরে সময়ে মেরামত না হওয়ায় জল জমে গর্ত তৈরি হয়েছে।

    উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, 'হাওড়া শহরের রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ। শহরের প্রায় ৯০ শতাংশ রাস্তার হাল অত্যন্ত খারাপ। তার জেরে বাস উল্টে যাওয়া, স্কুলগাড়ি পর্যন্ত দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। আগের সরকার কোনও কাজ করেনি। বর্ষার কারণে এই মুহূর্তে রাস্তার মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। আপাতত প্যাচ-ওয়ার্ক করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে বর্ষা শেষ হলেই রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু হবে। তার জন্য এস্টিমেট তৈরি হয়ে গিয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে।'

  • Link to this news (এই সময়)