• ৩১ বাংলাদেশিকে বেঙ্গালুরু থেকে আনা হলো মালদায়
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, মালদা: হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, বয়েজ-কাট চুল। পরনে জিন্সের প্যান্ট এবং টপ। ক্যামেরা দেখে বারবার মুখ ঢেকে ফেলছেন কয়েকজন তরুণী। দেখে মনে হবে না এঁরা সীমান্তের ও পারের গরিব ঘরের অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন আরও বেশ কয়েকজন মহিলা, যুবক এবং মধ্যবয়স্ক মানুষ। এমনই ৩১ জন বাংলাদেশিকে অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পরে বেঙ্গালুরু পুলিশ নিয়ে এল মালদায়।

    মঙ্গলবার প্রায় মধ্য রাতে এই বাংলাদেশিদের মালদায় আনা হয়। ধৃত ৩১ জনের মধ্যে ১১ জন তরুণী এবং মহিলা। তিন জন শিশুর পাশাপাশি রয়েছেন ১৭ জন পুরুষ। এঁরা কেউ কাজ করতেন রেস্তোরাঁয়, হোটেলে। কেউ-বা যানবাহনের শো-রুমে। আবার কেউ কাজ করতেন বড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে সহায়ক হিসেবে।

    কেউ এক বছর, আবার কেউ আট মাস আগে মালদার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ। এখান থেকে দালাল মারফত বেঙ্গালুরুতে যান। স্রেফ কাজের জন্য নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্যে এঁরা ভারতে এসেছিলেন, তা তদন্ত করে দেখছে বেঙ্গালুরু এবং মালদা জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে মালদা টাউন স্টেশনে ওই বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার পরে তাঁদের ইংরেজবাজার শহরের একটি হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সূত্রের খবর, কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁদের ও পারে পুশব্যাক করা হতে পারে।

    কর্নাটকের কোরামঙ্গলা, জয়ানগর, মলেশ্বরম, শিবদাপুর এবং রাজানগর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩১ জন বাংলাদেশিকে ধরা হয় বলে দাবি পুলিশের। ধৃতদের বাড়ি রাজশাহী এবং যশোহর এলাকায়। পুলিশের দাবি, তাঁরা ছদ্মনামে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কেউ কেউ আবার নকল আধার কার্ডও তৈরি করে ফেলেন বলে অভিযোগ। এই অনুপ্রবেশকারীদের পিছনে একটা বড় চক্র কাজ করছে, সেটা প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে পুলিশের কাছে।

    ধৃতদের মধ্যে দুই তরুণী বলেন, 'আট মাস আগে মালদার সীমান্ত দিয়ে আমরা সাত জন ঢুকি। এরপরে দালালকে ২০ হাজার টাকা করে দিয়ে বেঙ্গালুরুতে চলে যাই। সেখানে আরও ১০ হাজার টাকা দিয়ে শপিংমল এবং রেস্তোরাঁয় কাজ নিই।' যশোহর জেলার বাসিন্দা আব্দুল করিম, আব্বাস শেখ বলেন, 'শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকে ওই দেশে রোজগার করতে পারছিলাম না। তাই দালালচক্রের মাধ্যমে ভারতে আসি। গত আট মাস ধরে ভালো রোজগার করছিলাম।'

    বেঙ্গালুরুর এক পুলিশকর্তা কে আনাপ্পা বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিয়ে মালদায় আসেন। তিনি বলেন, 'কর্নাটকের পাঁচটি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩১ জনের হদিশ পাওয়া যায়। তাঁদের জেরা করতেই মালদার নাম উঠে আসে। তাই মালদা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলো।'

  • Link to this news (এই সময়)