সুদেষ্ণা ঘোষাল
চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এমন খবরে দিল্লিতে জল্পনা তুঙ্গে। বিজেপি সূত্রের দাবি, তৃতীয় মোদী সরকারে প্রথমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদলে দুই হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং নীতিন গড়করির মন্ত্রক বদল হতে পারে৷
বর্তমানে রেল, তথ্য ও সম্প্রচার, ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্বভার সামালাচ্ছেন অশ্বিনী বৈষ্ণব৷ আবার নীতিন গড়করির হাতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রকের দায়িত্ব রয়েছে।
রাজধানীতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, অশ্বিনী বৈষ্ণবকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনও মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পীযূষ গোয়েলের হাতে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রক রয়েছে। তাঁকে জাতীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দিয়েছে বিজেপি। তাই পীযূষ গোয়েলের জায়গায় অশ্বিনীকে নিয়ে আসা হতে পারে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করিকে কোন মন্ত্রকে সরানো হতে পারে সেই বিষয়েও রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে৷
এ বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এক ডজনেরও বেশি নতুন মুখকে নিয়ে আসা হতে পারে। আগামী বছর অর্থাত্ ২০২৭-এ দেশের সাতটি রাজ্যে বিধানসভা ভোট। ২০২৯-এ লোকসভা নির্বাচন। সে কথা মাথায় রেখেই রদবদল করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হলো, গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে, রাজধানী দিল্লিতে নিট প্রশ্ন ফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে যে ভাবে সরকার বিরোধী আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়েছে, তা দেখে নড়ে চড়ে বসেছে বিজেপির শীর্ষ নেতারা।
দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়া এবং ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের জেরেই শেষ পর্যন্ত তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান৷ তার পর থেকে জেন-জ়ি-দের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা শুরু করেছেন সরকারের শীর্ষ স্তরের মন্ত্রীরা৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সামাজিক মাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করে তরুণ সমাজের সঙ্গে আলাপচারিতা শুরু করেছেন৷ এই আবহে মন্ত্রিসভায় তরুণ মুখকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে বলে বিজেপি সূত্রের দাবি৷
তবে কবে মন্ত্রিসভার রদবদল হবে, সেই নিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে বিজেপিরই একটি সূত্রের দাবি, ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন। তার আগেই এই সংক্রান্ত ঘোষণা হয়ে যেতে পারে।
কোন কোন হেভিওয়েট মন্ত্রীর মন্ত্রক বদলের জল্পনা রয়েছে?
বিজেপি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, অশ্বিনী বৈষ্ণব ও নীতিন গড়করির মন্ত্রক বদল হতে পারে।
অশ্বিনী বৈষ্ণবকে কোন মন্ত্রক দেওয়া হতে পারে?
এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে জল্পনা রয়েছে, পীযূষ গোয়েলের জায়গায় অশ্বিনী বৈষ্ণবকে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
নীতিন গড়করিকে কোন মন্ত্রকে সরানো হতে পারে?
এখনও কোনও নির্দিষ্ট মন্ত্রকের নাম নিশ্চিত নয়। তাঁকে অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকে সরানো হতে পারে বলে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে।
কেন মন্ত্রিসভায় রদবদল করা হতে পারে?
২০২৭ সালের সাত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণে বদল আনার লক্ষ্যেই রদবদল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণ মুখকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।