এই সময়, সন্দেশখালি: ২০১৯- এর লোকসভা নির্বাচনের পরে ভোট পরবর্তী হিংসায় তিন বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় সাত বছর পরে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হলেন সন্দেশখালির ছয় তৃণমূল কর্মী। সন্দেশখালির ন্যাজাট থানার ভাঙ্গিপাড়ায় ওই খুনের ঘটনায় এই নিয়ে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই। ধৃতদের নাম বাবলু মোল্লা, জহর মির, মোমেন মির, স্বপন দাস, ভানুময় মণ্ডল ও স্বপন মণ্ডল।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার কলকাতার সিবিআই দপ্তরে কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে নোটিস দিয়ে ডেকেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা টানা জেরার পর সিবিআই এই মামলায় জড়িত সন্দেহে ছ'জনকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে পাঠিয়ে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাবে সিবিআই।
২০১৯-এর ৮ জুন ভোেট পরবর্তী হিংসায় সন্দেশখালি-১ ব্লকের ন্যাজাট থানার ভাঙ্গিপাড়ায় তিন বিজেপি কর্মীকে গুলি করার পর নৃশংস ভাবে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে সন্দেশখালির দাপুটে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। বিজেপি কর্মী প্রদীপ মণ্ডলের মৃতদেহ পাওয়া গেলেও সুকান্ত মণ্ডল এবং দেবদাস মণ্ডলের দেহ আজও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ এবং সিবিআই।
সিবিআইয়ের হাতে ছ'জনের গ্রেপ্তারের পর স্বস্তিতে ভাঙ্গিপাড়ার মণ্ডল পরিবারে সদস্যরা। নিহত প্রদীপ মণ্ডলের স্ত্রী পদ্মা বলেন, 'রাজ্য সরকার ও সিবিআইকে ধন্যবাদ। তাদের কাছে এই আবেদন করছি, যেন আগামী দিনে কোনও মায়ের সন্তান, স্ত্রীর স্বামীকে এ ভাবে খুন হতে না হয়।' নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, অতীতে তৃণমূল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ ও রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডিকে সঠিক ভাবে তদন্ত করতে দেয়নি। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে হাইকোর্টের নির্দেশে ওই খুনের তদন্তের ভার দেওয়া হয় সিবিআইকে।
তার পর সিবিআইয়ের স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ তদন্ত শুরু করে। সন্দেশখালির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। সম্প্রতি শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান আবদুল কাদের মোল্লা, দাপুটে তৃণমূল নেতা সুশীল খরবিন-সহ দশ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে বাকি ছ'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।