• ‘পথের ক্লান্তি ভুলে’ সেই সব দিন, কাঁথির কপালকুণ্ডলা মন্দিরের পুরোহিতকে একশো টাকা দিয়েছিলেন মহানায়ক
    এই সময় | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দিগন্ত মান্না

    'দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম মিলে তখন একটাই জেলা- মেদিনীপুর। ১৯৫৯-এ মুক্তিপ্রাপ্ত, উত্তমকুমার অভিনীত 'মরুতীর্থ হিংলাজ'- এর একটা বড় অংশের শুটিং হয়েছিল ওই জেলাতেই। অনেকেরই দাবি, ওই সিনেমার শুটিং দিয়েই চলচ্চিত্রের লোকেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে মেদিনীপুর। ঝাড়গ্রাম ও দিঘা লাগোয়া উদয়পুরের সমুদ্র সৈকতে হয়েছিল সিনেমার চিত্রগ্রহণ। আবার মহানায়কের 'বিকেলে ভোরের ফুল'-এর একটা বড় অংশের শুটিং হয়েছিল দিঘা ও কাঁথিতে।

    বিকাশ রায় পরিচালিত 'মরুতীর্থ হিংলাজ'-এর গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিং হয় ঝাড়গ্রামের ওদলচুয়ার কেটকি ঝর্না এলাকায়। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কথায় ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে 'পথের ক্লান্তি ভুলে, স্নেহভরা কোলে তব...' গানের দৃশ্যে মরুভূমি দেখানো হয়েছে। তখন বাংলা ছবির বাজেট বেশি থাকত না। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার লোকেশন সাজিয়ে-গুছিয়ে চিত্রনাট্যের রূপ দেওয়া হতো।

    ঝাড়গ্রামের দহিজুড়ি থেকে কংসাবতী যাওয়ার পথে বসন্তপুরের কাছে একটি এলাকা ছিল অনেকটা মরুভূমির মতো। শুটিং হয় সেখানেই। তবে উত্তমকুমার, বিকাশ রায়, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়রা থাকতেন ঘাটশিলায়। সেখান থেকে রোজ আসতেন শুটিং করতে। ১৯৭৪-এ পীযূষ বসু পরিচালিত 'বিকেলে ভোরের ফুল'-এর শুটিং হয়েছিল দিঘার সমুদ্র সৈকত ও সংলগ্ন রিসর্টে। শুটিংয়ের জন্য দিঘায় বেশ কয়েক দিন ছিলেন মহানায়ক। এখনকার মতো তখন দিঘায় পর্যটকদের এত ভিড় ছিল না।

    ফলে শুটিং করতে পরিচালককে বেশি বেগ পেতে হয়নি। তবে মহানায়ককে দেখতে ভিড় করতেন স্থানীয়রা। 'বিকেলে ভোরের ফুল'-এ কাঁথির কপালকুণ্ডলার মন্দিরও দেখানো হয়েছে। একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের জন্য মন্দিরে গিয়েছিলেন উত্তমকুমার ও সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়। মন্দিরের পুরোহিত ছিলেন প্রয়াত নরেন্দ্রনাথ পুরী। সিনেমায় তাঁকেও দেখা গিয়েছে।

    কাঁথির বাসিন্দা সুদীপ মাইতি বলেন, 'বিকেলে ভোরের ফুলসিনেমার সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের বহু স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আমার বয়স তখন নয় কি দশ। মহানায়কের শুটিং করতে আসার কথা শুনেছি বড়দের মুখে। পরে কাঁথির কপালকুণ্ডলা মন্দিরের পুরোহিতের সঙ্গেও কথা হয়েছিল আমার। শুটিং-পর্বে মহানায়ক ওঁকে একশো টাকা দিয়েছিলেন। নরেন্দ্রনাথ পুরী সে কথা আমাকে বলেছিলেন।'

    আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক, শিক্ষক ভাস্করব্রত পতির কথায়, 'মরুতীর্থ হিংলাজ সিনেমাটি আজও জনপ্রিয়। ঝাড়গ্রাম ও উদয়পুরে ওই ছবির গানের শুটিং হয়েছিল। মেদিনীপুরের মানুষ হিসেবে এই ভেবে গর্ববোধ হয় যে, মহানায়কের বহু হিট সিনেমার শুটিং স্পট এই মেদিনীপুর। এখন বাড়িতে বসে ফের সে সব সিনেমা দেখতে দেখতে খুব অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে।' (চলবে)

  • Link to this news (এই সময়)