• প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড, মৃত্যু অন্তত ৮ জনের
    এই সময় | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নেপালে হড়পা বানের জেরে মৃতের সংখ্যা হাজার ছুঁয়েছে। বাড়ছে নিখোঁজের সংখ্যাও। এরই মধ্যে বিপদের ভ্রুকুটি উত্তরাখণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যে। মঙ্গলবারই উত্তরাখণ্ড এবং অসমে বন্যা এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১২ জনের। এর মধ্যে উত্তরাখণ্ডেই মারা গিয়েছেন ৮ জন। পাশাপাশি রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অব্যাহত রয়েছে ভূমিধস। সেখানে ভূমিক্ষয়ের কারণে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে বিপর্যয়

    মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অসম ও উত্তরাখণ্ডে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১২ জনের। সব থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরাখণ্ড। সেখানেই অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিধসে গুয়াহাটির মাঠগারিয়া এলাকায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশে একাধিক নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। ওই রাজ্যগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। কিছু এলাকায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। বুধবারও সেখানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    উত্তরাখণ্ড রাজ্যে ক্ষতি

    আলমোড়া জেলায় বৃষ্টিজনিত দু’টি ঘটনায় পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ধারকিটুনি (Dharkituni) এলাকায় পাহাড়ের ঢাল থেকে ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের আঘাতে একটি টিনের শেডের দেওয়াল ভেঙে পড়লে দুই নেপালি শ্রমিক চাপা পড়ে মারা যান। সেখানকার হাভালবাগ এলাকায় দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। এর আগে সোমেশ্বর ব্লকের ভাদিউরা গ্রামে একটি বাড়ির ওপর কাদা ও ধ্বংসস্তূপ ধসে পড়লে তিনজন নিহত হন। জেলা দুর্যোগ বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারিক বিনীত পাল জানিয়েছেন, অবিরাম বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের ঢালে মাটি আলগা হয়ে গিয়েছে। বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধার কাজ চলছে। সেখানে নামানো হয়েছে SDRFকে। বেশ কিছু এলাকায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সেখানে পৌঁছতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা। দেরাদুন থেকে মুসৌরি যাওয়ার রাস্তাতেও একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

    রুদ্রপ্রয়াগে ভূমিধস

    উদ্বেগ বাড়ছে রুদ্রপ্রয়াগেও। সেখানকার বাসুকেদার এলাকায় কিমানা-ডানকোট গ্রামে ক্রমাগত ভূমিধস ও মাটি ক্ষয়ের ফলে বেশ কিছু বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গেই গবাদি পশুর শেড, শৌচাগার ও দশকের পর দশক ধরে চাষাবাদ করা উর্বর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভূমিধসের কারণে মাটি সরে যাওয়ার ফলে বিনোবা ধর বাঁক এবং কিমানা-ডানকোটের মধ্যবর্তী জাখালি-ভেরি সড়কের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ, চিকিৎসা পরিষেবা পেতে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে যাতায়াত করতে গ্রামবাসীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে পানীয় জল পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। ওই সমস্ত অঞ্চলে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

  • Link to this news (এই সময়)