এই সময়, শিলিগুড়ি: কাগজে-কলমে কড়া বার্তা আগেই জারি হয়েছিল। দিন ১৫ আগে শিলিগুড়িতে এসে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘোষণা করেছিলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকেই পর্যটন নগরীর চেহারা বদলাবে। কিন্তু মঙ্গলবার, নতুন বিধিনিষেধ চালুর প্রথম দিনেই বাস্তব ছবিতে তেমন বদল দেখা গেল না।
হাসমি চক থেকে বাজার, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা থেকে আবাসিক এলাকা, সর্বত্রই বেপরোয়া ভাবে থুতু-পিক ফেলা, সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার, বেআইনি পার্কিং, উল্টো পথে যান চলাচল এবং রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী রাখার চেনা ছবিই দেখা গেল। শহরের ব্যস্ততম হাসমি চকে রাস্তার পাশেই পানের পিক ফেলতে দেখা গেল পথচারীদের। থুতু ও পিক ফেলার জন্য ১০০ টাকা জরিমানার নিয়ম থাকলেও তা নিয়ে বিশেষ হুঁশ দেখা যায়নি। এক পথচারীর কথায়, 'সকালে দোকান খোলার পর থেকেই দেখছি ফুটপাথে পানের পিক ফেলা চলছে। প্রশাসন নিয়ম তো করেছে, কিন্তু তা দেখার লোক কোথায়?'
একই ছবি সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিকের ক্ষেত্রেও। মহাবীরস্থান, কলাহাটা বাজার, এনজেপি গেট বাজার, চম্পাসারি বাজার এবং বিধান মার্কেটে কড়া জরিমানার কথা বলা হলেও পাতলা প্লাস্টিকের ব্যাগের বিক্রি বন্ধ হয়নি। বিক্রেতারা নির্দ্বিধায় এই ক্যারিব্যাগে বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দিচ্ছে ক্রেতাদের হাতে।
'নো পার্কিং' জোনে বেআইনি গাড়ি ও টোটোর দাপটে যে যানজট হয়, এ দিনও সেই ছবি দেখা গিয়েছে। হিলকার্ট রোড, বিধান রোড ও সেবক রোডের চেহারা বদলায়নি। যেখানে-সেখানে প্রস্রাব করা, বেআইনি পার্কিংয়ের মতো অপরাধেও নির্দিষ্ট জরিমানার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তদারকির অভাবে নিয়ম ভাঙা অনেকের কাছেই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
একই ভাবে এ দিন দিনভর উল্টো পথে যানবাহন চলাচলও দেখা যায়। বিধান রোড থেকে ক্ষুদিরামপল্লির ভিতর দিয়ে হিলকার্ট রোডে ওঠার পরে ডান দিক দিয়ে উল্টো পথে মোটরবাইক চালাতে দেখা যায় অনেককে। রোহিত ঘোষ নামে এক চালককে কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁর উত্তর, 'একটু এগোলেই বিধান মার্কেট। অনেকেই তো এ ভাবেই যাচ্ছে।' যথারীতি বালি দখল করেছিল রাস্তা। শান্তিনগরে বউবাজার সংলগ্ন একটি রাস্তার প্রায় অর্ধেক জুড়ে এ দিন বালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশের বিমল সরকারের বাড়িতে নির্মাণকাজ চলছে। বিমল বাড়িতে না থাকলেও তাঁর স্ত্রী বলেন, 'বাড়ি বানাতে গেলে নির্মাণসামগ্রী তো রাখতেই হবে। বাড়িতে জায়গা নেই বলে সকলেই রাস্তায় রাখে।' নতুন নিয়মের বিষয়ে কিছুই জানা নেই বলেও জানান তিনি।
এর আগে পুরমন্ত্রী বলেছিলেন, 'রাস্তায় যেখানে-সেখানে থুতু ফেলা চলবে না। রাখা যাবে না বালি, পাথর বা নির্মাণসামগ্রী। রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে রাখলেও দিতে হবে জরিমানা।' পুলিশকে বিষয়টি দেখার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রথম দিনেই সবটা বদলানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, 'অনেকের মধ্যে দীর্ঘদিনের অনভ্যাস রয়েছে। এক দিনেই হয়তো সবটা বদলে যাবে না। এ জন্য ধারাবাহিক পদক্ষেপ করতে হবে।'
পুরসভার এক আধিকারিকের কথায়, 'দোকানদাররা আনাজ ফল প্লাস্টিকেই দিচ্ছেন বলে জানতে পেরেছি। নিয়ম করা এক কথা, আর বাজারে এসে তদারকি করা অন্য। সাধারণ মানুষ যদি নিজে থেকে সচেতন না হয়, তবে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ করে সমস্ত অনিয়ম রোখা মুশকিল।'