• পুরুলিয়ার রুক্ষ মাটি, স্বপ্ন বুনছে শহরতলি
    এই সময় | ৩১ আগস্ট ২০২৬
  • প্রশান্ত ঘোষ

    আর পাঁচজন মহিলার মতো ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকার ফাঁকে রুখা জমিতে ফসল ফলানোর ব্রত নিয়েছেন শহরতলির একদল মহিলা। পুরুলিয়ার রুক্ষ মাটিতে তাঁরা ফলাচ্ছেন বরবটি, ওল, কচু, শসা, কুমড়ো। লালন করছেন মনে জমে থাকা স্বপ্ন। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সঙ্গে আদিবাসী মহিলাদের স্বনির্ভর করা, তাঁদের সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া, চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়া। কলকাতা ও শহরতলির কয়েকজন মধ্যবয়সি মহিলা সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করার পথে হাঁটছেন গত কয়েক মাস ধরে।

    পুরুলিয়ার বলরামপুর ব্লকের বাণজোড়া পঞ্চায়েতের উলদা গ্রাম। চারদিকে রুক্ষ লাল মাটি, সেচের অভাব, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই গ্রামেই গড়ে উঠেছে 'বসুন্ধরা অ্যাগ্রো ফার্ম', একটি সম্মিলিত কৃষি উদ্যোগ। সেখানে যুক্ত ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের এক ডজন মহিলা। বজবজের অনিমা বাগ, মধ্যমগ্রামের ঋতা দাস, নিউ ব্যারাকপুরের পর্ণা ঘোষ, ব্যারাকপুরের সুদেষ্ণা বৈদ্য ঘর সামলে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন অন্য কাজ করে।

    উলদা গ্রামে প্রায় ১৬ বিঘা জমি কিনে এই মহিলারা কৃষিকাজ পরিচালনা, কী ধরনের ফসল বপন করা হবে, সব পরিকল্পনা করছেন। স্বামীরা সহায়তা করছেন। যার ফলশ্রুতি হিসাবে এই ভাদ্র মাসে ৬০ হাজার কেজি ওল উৎপাদন হয়েছে পাথুরে রুক্ষ লালমাটিতে।

    দলের অন্যতম উদ্যোগপতি অনিমা বাগ একটি নার্সারির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, 'বসুন্ধরার আসল শক্তি স্থানীয় মানুষ। সমীর মাহাতো, কীর্তিবাস মাহাতো, আনোয়ার সিদ্দিকির মতো শকুন্তলা, নীলিমা, যশোদা, কুলসুম বিবিরা এই উদ্যোগের প্রাণ।' অনিমা জানালেন, গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়মিত কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে বসুন্ধরার সুবাদে। কেন্দ্রের ভিবি জিরামজি প্রকল্পে পরিবার পিছু ১২৫ দিনের নিশ্চিত শ্রমদিবস তৈরি করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। সেখানেই গত ৯ মাসে দশ জন শ্রমিক প্রত্যেকেই ১৭০ দিন করে কাজ পেয়েছেন বসুন্ধরার জমিতে।

  • Link to this news (এই সময়)