• কখনও ল্যান্ডস্কেপ কখনও মণীষীর মুখ, খড় দিয়ে সৃষ্টিতে মগ্ন বিশ্বরূপ
    এই সময় | ৩১ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, বাঁকুড়া: নাম বিশ্বরূপ কর্মকার। নিবাস বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া ব্লকের মালিয়াড়া গ্রাম। পেশায় আয়কর বিভাগের কর্মী। অবসর সময় কাটে খড় নিয়ে নানা ধরনের শিল্পকর্ম তৈরি করা।

    এক যুগ ধরে বিশ্বরূপ খড়কে অন্য ভাবে ব্যবহার করে নতুন প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। কালো ভেলভেট বেস-এর উপরে খড়ের টুকরো দিয়ে বিশ্বরূপ অনায়াসে ফুটিয়ে তোলেন ল্যান্ডস্কেপ থেকে বিভিন্ন মণীষীর মুখ। বিশ্বরূপ বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতে খুব ভালোবাসতাম। হঠাৎ মনে হলো, ছবির উপরে যদি খড়কে যুক্ত করা যায়, তা অন্য মাত্রা নিতে পারে। সেই থেকে আমার নতুন অভিযান শুরু হয়।'

    ইতিহাস বলে, মালিয়াড়া গ্রামে কান্যকুব্জ ব্রাহ্মণবংশীয় চন্দ্রাধ্বর্য রাজবংশ সপ্তদশ শতাব্দী থেকে ছিলেন শাসক। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় সাহিত্যচর্চা হয় জনপ্রিয়। মালিয়াড়ার রাজা দামোদর চন্দ্রাষ্কর্য ছিলেন বিশিষ্ট পণ্ডিত ও কবি। 'শ্রীমন্নামামৃতসার', 'রামায়ণ সুধোদয়' ও 'ভাগবতামৃতবিন্দু' নামে তিনটি বই লিখেছিলেন, যা ছাপা হয়েছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্য ভাগে।

    সেই গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বরূপ প্রথমে আর্ট পেপারের উপরে পেনসিল দিয়ে ছবির বা স্কেচ তৈরি করেন তিনি। ছবির কোন অংশে কোন রঙের খড় ব্যবহৃত হবে, তা আগেই ঠিক করে তা কাঁচি, ছুরি, ব্লেড দিয়ে চিরে এবং বিশেষ ভাবে ইস্ত্রি করে সমান করে ছবিতে ব্যবহারের উপযোগী করেন। বিভিন্ন আকারে খড় কেটে নকশা অনুযায়ী সাজানো হয়।

    বিশ্বরূপ বলছেন, 'খড়ের স্বাভাবিক রং ব্যবহার করি। নতুন খড় কিছুটা হলুদ রঙের হয়। পুরোনো খড়ের রং আলাদা হয়। খড়ে জল ছিটিয়ে সূর্যালোকে রাখলে তা লালচে হয়ে ওঠে।' এ কাজের জন্য বিশ্বরূপ ২০২১-এ ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস, ২০২৩-এ ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডস, আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ইউনিভার্সিটি থেকে পান ডক্টরেট উপাধি। পান বঙ্গ গৌরব সন্মান, রবীন্দ্রনাথ টেগোর বঙ্গ সাহিত্য কলা সন্মান। ২০২৫-এ ভারত ভূষণ সম্মান পেয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)