এই সময়, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রাম শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এ বার জরিমানার পথে হাঁটতে চলেছে ঝাড়গ্রাম পুরসভা। পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় আবর্জনা, থুতু, নির্দিষ্ট ভ্যাটের পরিবর্তে অন্য জায়গায় জঞ্জাল ফেললে জরিমানা দিতে হবে। যে কোনও জায়গায় প্রস্রাব এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ ব্যবহার করলেও দিতে হবে জরিমানা। রবিবার ঝাড়গ্রাম পুরসভার ফেসবুক পেজে এমনই এক নির্দেশিকা পোস্ট করে শহরবাসীকে জানিয়ে দিয়েছে পুরসভা। সেখানে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে থুতু ফেলার জন্য ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। রাস্তায় অথবা জনসমক্ষে আবর্জনা ফেলা, প্রকাশ্যে প্রস্রাব অথবা মলত্যাগ, নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ ব্যবহার এবং বেআইনি আবর্জনা ফেলা বা ডাম্পিং করা- এই ধরনের নিয়ম ভাঙলে ২০০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করেছে পুরসভা।
রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড ভেঙে যায়। পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্বভার নেয় ঝাড়গ্রামের মহকুমাশাসক অনিন্দিতা রায় চৌধুরী। শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে পুরসভা। ঝাড়গ্রাম শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীরামপুরে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয়েছে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প। ঝাড়গ্রাম শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা আবর্জনা সেখানে নিয়ে গিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম শহরকে পরিষ্কার রাখতে বিভিন্ন পর্যায়ে সাফাই কর্মীরা কাজ করে থাকেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২৮৫ জন কর্মী রয়েছেন। নির্মল সাথীরা কাজের দেখভাল করেন এবং নির্মল বন্ধুরা বাড়ি বাড়ি জঞ্জাল সংগ্রহ করে ভ্যাটে নিয়ে যান। সেখান থেকে কনজারভেন্সী ওয়ার্কাররা আবর্জনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে। এ ছাড়া, ওয়ার্ডের রাস্তা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কারের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে চার জন করে ওয়ার্ড সাফাই কর্মী কাজ করেন। অভিযোগ, এরপরেও অনেকেই শহরকে আবর্জনার স্তূপে পরিণত করছেন। এর জন্য জরিমানার পথে হাঁটতে চলেছে পুরসভা বলে দাবি পুরসভার এক আধিকারিকের।
ঝাড়গ্রাম পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, '১২০ মাইক্রোনের নীচে প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ ব্যবহার করলেই জরিমানা করা হবে। কারণ, ১২০ মাইক্রোনের নীচের প্লাস্টিক পচনশীল নয়। প্লাস্টিক বর্জন করার জন্য মাইকে প্রচার করেও শহরবাসীকে সচেতন করা হবে।'