সুমন ঘোষ, নারায়ণগড়
তৃণমূলকে গণতান্ত্রিক ভাবে 'খতম' করা। আর সিপিএম যেন কোনও ভাবেই উঠতে না পারে- দলীয় কর্মী-সমর্থকদের এই দু'টি গুপ্তিমন্ত্রেই দীক্ষিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নারায়ণগড়ের মকরামপুর টোল প্লাজার কাছে জাতীয় সড়কের পাশে একটি বেসরকারি হোটেলে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় মহাপ্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করেছিল ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপি। দু'দিনের ওই শিবিরে রবিবার শেষ বক্তা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন সন্ধে ৬টা নাগাদ শিবিরে ঢুকে টানা প্রায় ৪০ মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল বর্তমান সরকারের উন্নয়নকে মানুষের সামনে তুলে ধরা। মুখ্যমন্ত্রী দলীয় কর্মীদের জানান, সেই উন্নয়ন তুলে ধরতে যে সব উপভোক্তারা সরকারি সুবিধা পেয়েছেন সেই প্রাপকদের কাছে পৌঁছে যাওয়া জরুরি। আর সেই কাজটি করতে গিয়ে সরকার -ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় যেন ঠিক থাকে। কোথাও যেন কোনও ভুল বোঝাবুঝি না-হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ করছি। সব বাইরে বলছি না। আমাদের কাজগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। সে ক্ষেত্রে দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। আর দুটো কাজের বিষয়ে কর্মীদের গুপ্তিমন্ত্রে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছি। এক, তৃণমূলকে গণতান্ত্রিক ভাবে খতম করতে হবে। দুই, সিপিএম যেন উঠতে না-পারে।'
এ দিন শিবির থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মুখ্যমন্ত্রী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখন মোছা প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, 'আরও অনেক কিছু হবে। এটা বিলম্বিত বোধোদয়। আগেই এ সব না-লেখা উচিত ছিল। কিষেণজিকে এরা জানে? কত নিরীহ লোকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। সেখানে কত মানুষের প্রাণ গিয়েছে। শিলদায় ইএফআর ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে কত জওয়ানকে মেরে ফেলেছে। এখানে লেখা হচ্ছে ফ্রি প্যালেস্টান। লেখা উচিত ছিল ফ্রি পিওকে। শিক্ষার স্বার্থে অনেক কিছু মোছা হবে। আমরা ছাড়ব না।'
ডেঙ্গি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'ডেঙ্গির বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তর দেখছে। যা রোগ হবে সেটিই প্রেসক্রিপশনে লিখতে হবে। ডেঙ্গি লিখতে চিকিৎসকদের আর ভয় পাওয়ার কারণ নেই। কারণ, এটা আগের সরকার নয়। যেখানে রোগ লুকিয়ে রাখা হতো। আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে বলা হতো। এখন যে রোগ হবে তাই লিখবেন। ডেঙ্গির কারণ ঝোপ, জমা জল ও মশার লার্ভা। কলকাতা এলাকায় এই সমস্যা মেটাতে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর, সেচ দপ্তর এবং পঞ্চায়েত এলাকায় পঞ্চায়েত ওপঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন দপ্তর সেই কাজগুলো করবে।'
বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় ফায়ার লাইসেন্স না-থাকা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'ওঁদের বুঝিয়ে করাতে হবে। সময় ও সুযোগ দিতে হবে। কারণ, এখানেও বহু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।' তাঁর সংযোজন, 'লাইসেন্স দেওয়ার জন্য ঘুষ নেওয়া বন্ধ করতে হবে। দমকলের ডিজিকে ৩৭-এ প্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আগের সরকার দমকলের ডিজিকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল। যদি সময় দেওয়ার পরেও কোনও হোটেল-রেস্তোরাঁ নিয়ম না-মানে তা হলে ৩৭-এ প্রয়োগ করে সে সব সিল করে দেওয়া হবে।'
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, 'আইন সবার জন্য সমান।' তিনি জানান, নেপালের দুর্ঘটনায় রাজ্যের ৩৯ জন নিখোঁজ ছিলেন। রবিবার দু'জনের সন্ধান মিলেছে। এখনও ৩৭জন নিখোঁজ। তাঁদেরও খোঁজ চলছে।