এই সময়: অগস্টের শেষপ্রহরে ফের নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ল গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। তবে পূর্ব ভারতে বৃষ্টির এই সম্ভাবনা গোটা দেশের বর্ষার ঘাটতি মেটাতে কতটা সাহায্য করবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বরং বৃষ্টির অসম বণ্টনের জেরে খরিফ চাষে ইতিমধ্যেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ২৯ অগস্ট পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক বর্ষার ঘাটতি বেড়ে প্রায় ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওডিশা উপকূলের উপরে যে নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছিল, সেটি রবিবার, ৩০ অগস্ট ২০২৬ সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ শক্তি বাড়িয়ে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নিম্নচাপটি উত্তর ওডিশা এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠে মৌসুমি অক্ষরেখাটি বর্তমানে অমৃতসর, মুজ়ফ্ফরনগর, হরদই, গোরখপুর, পটনা, বাঁকুড়া হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওডিশা উপকূলে অবস্থানরত সুস্পষ্ট নিম্নচাপের কেন্দ্রের উপর দিয়ে বিস্তৃত রয়েছে। সেখান থেকে অক্ষরেখাটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মধ্য-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
এই নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বিচ্ছিন্ন ভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে ঝাড়খণ্ডে। ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওডিশাতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ৩০ অগস্ট অতি ভারী এবং ৩১ অগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। সঙ্গে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
দেশের বেশির ভাগ অংশে অগস্টে প্রত্যাশার তুলনায় ভালো বৃষ্টি হলেও সামগ্রিক ভাবে বর্ষার ঘাটতি কমেনি। ৩১ জুলাই পর্যন্ত গোটা দেশে বর্ষার ঘাটতি ছিল ১৩ শতাংশ। অগস্টের শেষে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। মূলত বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ, পাঞ্জাব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বৃষ্টির বড় ঘাটতিই এর অন্যতম কারণ। ১২টি রাজ্যে ১ জুন থেকে বৃষ্টির ঘাটতি ২০ শতাংশের বেশি।
বৃষ্টির এই অনিয়মিত বণ্টনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে খরিফ চাষে। ২৯ অগস্ট পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খরিফ ফসলের মোট চাষের এলাকা প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। ধানের চাষের জমি কমেছে ৩ শতাংশেরও বেশি। দেশে ইথানল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল ভুট্টার চাষও গত বছরের তুলনায় ৪ শতাংশের বেশি কমেছে।
বৃষ্টির ঘাটতির তালিকায় সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মেঘালয়ে — ৫৮ শতাংশেরও বেশি। মণিপুর ও অরুণাচলপ্রদেশেও ঘাটতি যথাক্রমে ৪৩ ও ৪১ শতাংশ। এ ছাড়া বিহারে ৪২ শতাংশ, অন্ধ্রপ্রদেশে ৪১ শতাংশ, পাঞ্জাবে ৩৬ শতাংশ, অসমে ২৫ শতাংশ এবং কর্নাটকে ২৩ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। গোয়া, রাজস্থান ও কেরালাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের উপদ্বীপ অংশে ১ জুন থেকে বৃষ্টির ঘাটতি ২৩ শতাংশের বেশি। অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক ও কেরল বর্ষার বড় সময়জুড়েই তুলনামূলক ভাবে শুকনোই থেকেছে। ফলে বাংলায় আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টি স্বস্তি দিলেও দেশের সামগ্রিক বর্ষার ঘাটতি এবং কৃষিক্ষেত্রে তৈরি হওয়া চাপ কাটার সম্ভাবনা নিয়ে তেমন আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না।