• আরতিতে পুরসভার খরচ ৮ লক্ষ, বিতর্ক
    এই সময় | ৩১ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, কোচবিহার: পুরকর্মীদের বেতন অনিয়মিত। তার মধ্যে সম্প্রতি বেশ কয়েকজন কর্মীকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের আবার অবসরের পরে গ্র্যাচুইটি বকেয়া রয়েছে। সবমিলিয়ে পুরসভার 'ভাঁড়ে মা ভবানী' অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে দু'দিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠানের জন্য পুরসভার কোষাগার থেকে প্রায় আট লক্ষ টাকা খরচ করা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

    রবিবার শহরের বৈরাগী দিঘি এবং সোমবার সাগর দিঘিতে বারাণসীর ধাঁচে আরতির আয়োজন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই দুই অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় আট লক্ষ টাকা কোষাগার থেকে দিয়েছে পুরসভা।

    আরতির জন্য মঞ্চ, এলইডি আলো, সাউন্ড-সহ যাবতীয় খরচ পুরসভা বহন করেছে। এর বাইরে আরতির জন্য উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ থেকে পাঁচ জন পুরোহিতকেও নিয়ে আসা হয়েছে। সেই টাকা কোথা থেকে বরাদ্দ হয়েছে, তা জানা যায়নি। আর্থিক সমস্যায় ধুঁকতে থাকা পুরসভা কী ভাবে দু'দিনের অনুষ্ঠানে এত খরচ করল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিদায়ী পুরবোর্ডের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার, সিপিএমের মধুছন্দা সেনগুপ্ত। তাঁর কথায়, 'গোটা শহর ঠিক ভাবে পরিষ্কার হচ্ছে না। বেতন পাচ্ছেন না কর্মীরা। পুরসভার ভিতরে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।'

    পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান, তৃণমূলের রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বক্তব্য, 'বর্তমানে পুরসভার আর্থিক অবস্থা যা, তাতে বাড়তি খরচ করা একদমই ঠিক নয়। পুরসভার কাজ পরিষেবা দেওয়া। আর এই ধরনের কিছু করতে হলে তার জন্য আলাদা ফান্ড বরাদ্দ করা উচিত সরকারের।'

    খরচ প্রসঙ্গে পুরসভার কোনও আধিকারিক এবং কর্মী মন্তব্য করতে চাননি। এ দিকে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, 'এর মধ্যে বিতর্কের কিছু নেই। দিঘিগুলি সাফাইয়ের মাধ্যমে রাজার শহরকে আবার ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই সন্ধ্যা আরতির আয়োজন করা হয়েছে।' এ দিন সন্ধ্যায় বৈরাগী দিঘিতে আরতি দেখতে বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে ছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস, সদর মহাকুমাশাসক গোবিন্দ নন্দী।

  • Link to this news (এই সময়)