• Nepal Flash Flood: মৃতদের পরিচয় খুঁজতে গুজরাট থেকে নেপালে ফরেন্সিক দল, DNA পরীক্ষায় সাহায্য করবে NFSU
    এই সময় | ৩০ আগস্ট ২০২৬
  • ভয়াবহ হড়পা বানের পর নেপালে মৃতদের শনাক্তকরণের কাজে সহায়তার জন্য বিশেষ ফরেন্সিক দল পাঠাল ভারত। গুজরাতের গান্ধীনগরের ন্যাশনাল ফরেন্সিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি (NFSU)-র ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল শনিবার নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। মূলত DNA পরীক্ষার মাধ্যমে বন্যায় মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতেই এই দল কাজ করবে।

    NFSU-এর সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ইন ডিএনএ ফরেন্সিক (Centre of Excellence in DNA Forensics)-এর প্রধান ডা. ভার্গব প্যাটেল এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নেপাল সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে দলটি বিপর্যয়ে মৃত মানুষদের শনাক্তকরণ বা DVI প্রক্রিয়ায় সাহায্য করবে। এর মধ্যে মৃতদেহ থেকে DNA নমুনা সংগ্রহ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে রেফারেন্স DNA স্যাম্পেল নেওয়া এবং দুই ধরনের নমুনা মিলিয়ে মৃতের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ রয়েছে।

    নেপালের ভয়াবহ বন্যায় বহু মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। অনেক দেহ দীর্ঘ সময় জলে বা কাদার মধ্যে থাকার কারণে পচে গিয়েছে। ফলে মুখ দেখে বা সাধারণ পরিচয়পত্রের মাধ্যমে অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে DNA পরীক্ষাই মৃতদের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিগুলির একটি।

    বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের পরিবারের কাছে দ্রুত নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। DNA নমুনা মিলিয়ে কোনও মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত হলে তাঁর পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভুল পরিচয় বা মৃতদেহ হস্তান্তরের আশঙ্কাও কমবে।

    নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ নিখোঁজ। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে নেপালে ৬৭৫-এ পৌঁছেছে। তিব্বতে আরও সাত জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ফলে নেপাল-তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮২। একই সঙ্গে প্রায় ৩,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ। মৃত ও নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীরাও রয়েছেন।

    রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় ৩,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই বিপর্যয়ে বিশেষজ্ঞ সহায়তার প্রয়োজন হওয়ায় ভারত ও চিন থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। মৃতদেহ শনাক্তকরণ এবং DNA পরীক্ষাকে এখন উদ্ধার অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নেপালে বহু ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী আটকে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে এখনও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এর আগে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, ২৮৭ জন ভারতীয় এখনও নিখোঁজ বা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, পাশাপাশি ১২৮ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরও কোনও খোঁজ নেই। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের সংখ্যা পরবর্তী অভিযানে বেড়েছে।

    ফলে NFSU-এর এই ফরেন্সিক দল শুধু নেপালের স্থানীয় প্রশাসনকেই নয়, ভারতীয় পরিবারগুলিকেও গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে। কোনও ভারতীয় নাগরিকের দেহ উদ্ধার হলে DNA পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে।

    মৃতদের পরিচয় শনাক্তকরণের পাশাপাশি ভারত নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযানেও সহায়তা করছে। ভারত থেকে প্রায় ৬০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ দলও পাঠানো হয়েছে। নেপাল সরকার জানিয়েছে, রাস্তা, সেতু, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুধু ত্রাণ নয়, প্রযুক্তিগত সহায়তাও প্রয়োজন।

    নেপালের বিভিন্ন এলাকায় এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে কাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও নিখোঁজদের সন্ধানে নদী ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গেও তল্লাশি চলছে। এই পরিস্থিতিতে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে NFSU-এর DNA বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি উদ্ধার-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    পরিবারগুলির কাছে নিখোঁজ প্রিয়জনের কোনও খবর পাওয়া এখন সবচেয়ে বড় অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে DNA পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদের পরিচয় দ্রুত নিশ্চিত করাই গুজরাত থেকে যাওয়া ফরেন্সিক দলের প্রধান লক্ষ্য।

    ১. নেপালে কেন ফরেন্সিক দল পাঠিয়েছে ভারত?

    ভয়াবহ বন্যায় মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করতে ভারত গুজরাতের NFSU থেকে ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ ফরেন্সিক দল পাঠিয়েছে।

    ২. NFSU-এর দল কীভাবে মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করবে?

    মৃতদেহ থেকে DNA নমুনা সংগ্রহ করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের reference DNA sample-এর সঙ্গে তা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

    ৩. DNA পরীক্ষার প্রয়োজন কেন?

    দীর্ঘ সময় জল ও কাদায় থাকার কারণে অনেক মৃতদেহের চেহারা বিকৃত বা পচে গিয়েছে। ফলে চোখে দেখে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন। এই পরিস্থিতিতে DNA পরীক্ষা নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    ৪. NFSU-এর ফরেন্সিক দলের নেতৃত্বে কে রয়েছেন?

    NFSU-এর Centre of Excellence in DNA Forensics-এর প্রধান ডা. ভার্গব প্যাটেল দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    ৫. এই দল কি ভারতীয়দের পরিচয় শনাক্ত করতেও সাহায্য করবে?

    হ্যাঁ। নেপালে নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে কারও মৃতদেহ উদ্ধার হলে DNA পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে তথ্য পৌঁছনোর প্রক্রিয়ায় এই দল সাহায্য করতে পারে।

    ৬. নেপাল বন্যায় কত জন মারা গিয়েছেন?

    প্রতিবেদনে দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে মৃতের সংখ্যা ৬৭৫। পাশাপাশি প্রায় ২,৪২৬ জন নিখোঁজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ৭. মৃতদের পরিচয় শনাক্তকরণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    DNA পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারকে নির্ভুল তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভুল পরিচয়ে মৃতদেহ হস্তান্তরের আশঙ্কাও কমবে।

    ৮. নেপালের বন্যায় ভারত কী কী সাহায্য করছে?

    মৃতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ছাড়াও ভারত ত্রাণসামগ্রী, উদ্ধার ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। প্রায় ৬০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)