• বিপদসীমার উপরে মন্দাকিনীর জল, চিত্রকূট এলাকায় জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে ব্রিজ, দোকানপাট
    এই সময় | ৩০ আগস্ট ২০২৬
  • ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢালের কারণে উত্তরপ্রদেশের মন্দাকিনী নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে চলছে। জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পার্শ্ববর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই নদীসংলগ্ন নীচু এলাকা এবং বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র রামঘাট সম্পূর্ণ জলে ভেসে গিয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, রামঘাটের প্রায় সমস্ত দোকানপাট, ঘাট ও মন্দির, ব্রিজ জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। হঠাৎ জল বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের মালপত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঠিকমতো সময় পাননি। বন্যার জল জনবসতি এলাকাতেও ঢুকে পড়েছে। প্রখ্যাত তীর্থস্থান চিত্রকূটে আসা বহু পুণ্যার্থী ও স্থানীয় মানুষ বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়েছেন। এছাড়া, পার্শ্ববর্তী উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ সীমান্তের একাধিক গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।

    জেলা প্রশাসনের তরফে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF)-র একাধিক টিম দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। জলে আটকে থাকা মানুষকে নৌকা ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হেলিকপ্টারের সাহায্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হচ্ছে। রামঘাট এবং তার আশেপাশের সমস্ত প্রধান সড়ক ও সংযোগকারী রাস্তাগুলোতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    নেপালে হড়পা বানের পরে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের কিছু এলাকায় জলস্তর বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। সেই বিষয়ে শনিবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, নেপালের ভয়াবহ বন্যার কারণে রাজ্যের কোনও ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। এ দিন তিনি বালিয়ার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। উত্তরপ্রদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী স্বতন্ত্রদেব সিং জানিয়েছেন, নেপালের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি রাজ্যে জন্য কোনও প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বদা সতর্ক রয়েছি এবং বন্যাদুর্গত সব জেলা নিরাপদ রয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)