• ‘...তিনি হিন্দুই নন’, নিউ ইয়র্কে ‘মুসলিম’ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে যা বললেন ভাগবত
    এই সময় | ৩০ আগস্ট ২০২৬
  • Big Breaking: ‘হিন্দুরাষ্ট্র’ মানেই ভারত থেকে মুসলিমদের বাদ দেওয়া নয়। বরং ভারতে মুসলিমদের কোনও জায়গা থাকা উচিত নয়—এমনটা যিনি মনে করেন, তিনি হিন্দুত্বের মূল ভাবনাই বোঝেননি। নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমনই বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত। ধর্মীয় ঐক্য ও সহাবস্থানের পক্ষে সওয়াল করে তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় সমাজের বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য নিহিত।

    ভাগবত বলেন, ‘কোনও হিন্দু যদি মনে করেন যে ভারতে কোনও মুসলিমের থাকা উচিত নয়, তা হলে তিনি হিন্দুই নন।’ তাঁর কথায়, হিন্দুত্বের ধারণা কাউকে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলে না। বরং সকলকে নিয়ে চলাই ভারতীয় ভাবনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    ‘হিন্দুরাষ্ট্র’ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন RSS প্রধান। তিনি বলেন, ‘হিন্দুরাষ্ট্রের ধারণার অর্থ মুসলিমদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়া নয়।’ এ প্রসঙ্গে একটি পুরনো কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ভাগবত জানান, মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন তাঁকে একবার প্রশ্ন করেছিলেন—যদি ভারত হিন্দুরাষ্ট্র হয়, তা হলে মুসলিমদের কী হবে? তাঁদের কি দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে? সেই প্রশ্নের উত্তরে ভাগবত বলেছিলেন, ‘না, মুসলিমদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কথা হিন্দুত্ব বলে না। এটাই হিন্দুত্ব নয়।’

    ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। ভাগবতের কথায়, ‘নিজেকে হিন্দু বলতে হলে বিশ্বাস করতে হবে যে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনোর পথ একাধিক। সব পথই শেষ পর্যন্ত একই ঈশ্বরের কাছে পৌঁছয়।’ তাঁর বক্তব্যে ভারতীয় সংস্কৃতির বহুত্ববাদী চরিত্রের কথাই উঠে আসে।

    এর আগেও একাধিকবার হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন RSS প্রধান। ২০২১ সালে তিনি বলেছিলেন, ‘কোনও হিন্দু যদি বলে যে এখানে কোনও মুসলিম থাকা উচিত নয়, তা হলে সেই ব্যক্তি হিন্দু নন।’ একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, হিন্দু-মুসলিম সংঘাতের সমাধান বিভাজন নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

    নিউ ইয়র্কে ভাগবতের এই অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তাঁর অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেছেন আগেই। পাশাপাশি একাধিক হিন্দু, মুসলিম এবং আন্তঃধর্মীয় সংগঠনও তাঁর নিউ ইয়র্কের অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।

    এই আবহে দাঁড়িয়ে ভাগবতের বক্তব্যে উঠে এসেছে অন্য একটি বার্তা—হিন্দুত্বের ধারণাকে তিনি ধর্মীয় বর্জনের বদলে ঐক্য, সহাবস্থান এবং ভারতীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল, ধর্ম আলাদা হলেও ভারতীয় সমাজের ঐক্য অটুট থাকা প্রয়োজন।

  • Link to this news (এই সময়)