• বৌদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রতিবাদ, প্রাণ গেল স্ত্রীর
    এই সময় | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, মালদা: নিজের বৌদির সঙ্গে রিলস বানাতেন যুবক। ব্যাপারটা দেখে সেভাবে গা করেননি শিলা। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ভিডিয়ো করার অছিলায় তাঁর স্বামী যে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন, বুঝতে পারেননি তিনি। বৌদির সঙ্গে স্বামীকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করেছিলেন। তার পরেই শিলা খাতুনকে (২৫) গলা কেটে নৃশংস ভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। আর এই ঘটনায় অভিযুক্ত দেওরকে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৌদির বিরুদ্ধে।

    দু'জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার থানার সাটটারি এলাকায়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এদিন সকালে অভিযুক্তদের বাড়িতে চড়াও হন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দু'জনেই মাদকের নেশা ও কারবারে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত।

    নিহত শিলার স্বামী মহম্মদ মোজাম্মিল। তাঁদের ছয় এবং তিন বছরের দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। পেশায় দিনমজুর মোজাম্মিলের সঙ্গে ন'বছর আগে মানিকচক ব্লকের এনায়েতপুর এলাকার বাসিন্দা শিলার বিয়ে হয়। তাঁদের পাশের বাড়িতে থাকেন মোজাম্মিলের বড় বৌদি রুকসানা বিবি। রুকসানারও দুই নাবালক সন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী ভিন রাজ্যের শ্রমিক। কিন্তু স্বামীর অনুপস্থিতিতে দেওর মুজাম্মিলের সঙ্গে রুকসানা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। দিনের পর দিন তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বেড়ে চলেছিল বলে অভিযোগ। একদিন হাতেনাতে ধরে প্রতিবাদে সরব হন শিলা। এরপর তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করা হয় বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

    প্রাথমিক তদন্তের পরে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, এদিন রাত সাড়ে নটা নাগাদ শিলাকে তাঁর স্বামী ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার শ্বাসনালী কেটে খুন করে। তারপরে মাদুরে সেই দেহ পেঁচিয়ে খাটের তলায় লুকিয়ে রাখে বলে অভিযোগ। রাতে নাবালক সন্তানদের ফেলে বৌদির সঙ্গে ভিন রাজ্যে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন মোজাম্মিল। ঘটনাচক্রে বৃহস্পতিবার রাতে মোজাম্মিলের এক ভাগ্নে জব্বার শেখের মোটরবাইক খারাপ হয়ে যায় সাটটারি এলাকায়।

    কাছেই মামার বাড়ি, সেই কারণে ১০০ মিটার দূরত্বের রাস্তা মোটরবাইক ঠেলে মামার বাড়ি নিয়ে আসে। সেই সময়ে মোজাম্মিল তাঁর বড় বৌদির সঙ্গে পালানোর আগে ঘররে দরজায় তালা দিচ্ছিলেন। ভাগ্নেকে দেখে হকচকিয়ে যান দু'জনে। ছোট মামা এবং বড় মামির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জব্বারের সন্দেহ হয়। কোথায় যাচ্ছে জানতে চাইলে অসংলগ্ন কথা বলেন দু'জনে। এরপরই জোর করে ঘরের দরজা খোলানোর চেষ্টা চালান। দরজা না খুলতে দেওয়ায় জব্বার জানলা দিয়ে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে উঁকি মেরে দেখেন, মেঝেতে রক্ত পড়ে রয়েছে। এরপরই জব্বার চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন। আশেপাশের লোকজন বেরিয়ে এসে দু'জনকে ধরে ফেলেন।

    মৃতের এক আত্মীয় ফেন্সি বিবি এবং আজমল শেখ বলেন, 'শিলা খাতুন অত্যন্ত ভদ্র এবং সাংসারিক মেয়ে ছিল। বড় জায়ের সঙ্গে স্বামীর সম্পর্ক জেনে ফেলায় প্রতিবাদ করেছিলেন। তার জেরে অশান্তি, গন্ডগোল হয়েছিল। আমাদের বিষয়টি শিলা জানিয়েছিল। এ নিয়ে গত তিন মাস ধরে ওদের সংসারে গোলমাল চলছিল। তারপরেই পরিকল্পনা করে শিলাকে ওঁরা গলা কেটে খুন করে দেহ লুকিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল।' তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, খুনে ব্যবহৃত একটি হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। বৌদির সঙ্গে সম্পর্কের জেরে নিজের স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত স্বীকার করেছে।

  • Link to this news (এই সময়)