• মাংস খাওয়ার আবদার করায় ছেলেকে খুনের অভিযোগ, স্ত্রীর সঙ্গে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
    এই সময় | ২৮ আগস্ট ২০২৬
  • শ্রাবণ মাসে মাংস খেতে চেয়েছিল ছেলে। এই ‘আবদার’ করায় সেই ছেলেকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। খুনের অভিযোগ উঠেছে মৃতের বাবার বিরুদ্ধে। এর পরে পুলিশকে না জানিয়ে, স্বামীকে বাঁচাতে প্রমাণ লোপাট করেন মৃতের মা বলেও অভিযোগ। পুনের এই ঘটনায় অভিযুক্তর ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম মহেশ ভাগবত গায়কোয়াড় (Mahesh Bhagwat Gaikwad)। গত ২৪ অগস্ট এই খুনের ঘটনা ঘটে পুনের ওয়ারজে মালওয়াড়ি (Pune’s Warje Malwadi) এলাকায়। সেখানকার রামনগরে এই খুনের অভিযোগ উঠেছে মহেশের বাবা ভাগবত সূর্যবাহন গায়কোয়াড়-এর বিরুদ্ধে।

    এই খুনের ঘটনায় ভাগবত সূর্যবাহন গায়কোয়াড় এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    শ্রাবণ মাসে মাংস খাওয়ার আবদার

    শ্রাবণ মাসে অনেক পরিবারই নিরামিষ খাবার খান। একই নিয়ম মেনে চলত গায়কোয়াড় পরিবারও। তবে, ওই মাসেই মাংস খাওয়ার দাবি করেন মহেশ। পুলিশ সূত্রে খবর, এক সময়ে ঠিকা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন মহেশ। তবে এখন তিনি বেকার। তবে প্রায়দিনই মদ্যপান করতেন তিনি।

    সূত্রের খবর, নিয়মিত মদ্যপান করায় এবং কোনও কাজ না করায় মহেশকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। এর পর থেকে আলাদা থাকতেন তিনি। তবে প্রায়দিনই খাওয়ার জন্য বাবার ঘরে যেতেন তিনি। ঘটনার দিনেও রাতে মদ্যপান করে বাবার বাড়িতে গিয়ে মাংস রান্না করতে বলেন তিনি। তাঁরা বাবা-মা শ্রাবণ মাস মাংস বা কোনও আমিষ খাবার বাড়িতে রান্না হবে না বলে জানিয়ে দেন। এই নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে বচসা হয় মহেশের। সেই সময়ে তাঁকে মারেন ৬৪ বছর বয়সি ভাগবত সূর্যবাহন গায়কোয়াড় বলে অভিযোগ। এর জেরেই মৃত্যু হয় মহেশের।

    খুনের প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা

    এ দিকে, ওই খুনের ঘটনার পরেই প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা করেন মহেশের মা প্রভাতী গায়কোয়াড় বলে অভিযোগ। ওই এলাকার পুলিশ আধিকারিক মহেশ বোলকোটগি (Mahesh Bolkotgi) জানিয়েছেন, এই খুনের কথা পুলিশ বা কাউকে না জানিয়ে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন প্রভাতী। সেখান থেকে রক্তের দাগ মুছে ফেলে প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা করেন তিনি বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে এই খুনের ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করাও হয়।

    অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার

    পুলিশ জানিয়েছে, এই নিয়ে পরে ওয়ারজে মালওয়াড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের দাদা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে করা ভাবগতকে। সেই সঙ্গে খুনের প্রমাণ লোপাট করে তাঁকে সাহায্য করার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্ত্রী পার্বতীকেও।

    এই নিয়ে আরও তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছেন সেখানকার পুলিশ আধিকারিকরা।

  • Link to this news (এই সময়)