• পর্যটকদের জন্য খুলবে ভুটানঘাট, উদ্যোগী বন দপ্তর
    এই সময় | ২৮ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, আলিপুরদুয়ার: প্রায় দুই দশক ধরে বন্ধ থাকা আলিপুরদুয়ারের ভুটানঘাট ফের পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগী হলো বন দপ্তর। একদিকে বক্সায় ভিন রাজ্য থেকে বাঘ আনার প্রস্তুতি তুঙ্গে, অন্য দিকে ঠিক তার বিপরীতে হাতিপোতা ও ময়নাবাড়ি পেরিয়ে মোহময়ী ভুটানঘাট এবং কালীখোলা হয়ে অসম পর্যন্ত যাওয়ার একটি নয়া পর্যটন সার্কিট তৈরির পরিকল্পনা করেছে বন দপ্তর। বৃহস্পতিবার দপ্তরের ওই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ।

    মন্ত্রী বলেন, 'ভুটানঘাটের অপরূপ সৌন্দর্য চাক্ষুস করার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়ামাত্র ফের পর্যটকরা সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। দরকারে হাতিপোতা থেকে ময়নাবাড়ি রুটে ােজিপসি সাফারির অনুমতিও দেওয়া হবে। ভুটানের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কালীখোলা হয়ে অসম পর্যন্ত যাওয়ার একটি জিপসি রুট তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছে।'

    কী রয়েছে ভুটানঘাটে? হাতিপোতা থেকে বেরিয়ে জঙ্গলের ঘেরাটোপ হালকা হতেই উঁকি দেয় কালো পাহাড়। খানিক এগোতেই রং বদল! চারদিক ধূসর। সঙ্গে গায়ে-গায়ে লেগে খয়েরি, বাদামিও। স্পষ্ট রামধনু না-পেলেও বেশ কয়েকটা ভিন্ন রংয়ের পাহাড়। রায়ডাকের স্বচ্ছ জলের ছটায় রোদের ঝিলিক লেগে রঙিন ওই পাহাড়কে 'সপ্তপর্ণী' বলেই মনে হয়। স্থানীয়দের একাংশ এই নামেই এক সময়ে ডাকতেন পাহাড়ের এই অংশকে। কেউ আবার একে তিন রঙা পাহাড় বলেন। আবার একাংশ একে ভুটানের কালাপাহাড়ের অংশ বলে থাকেন, তবে তা অবশ্য নয়।

    এখানকার শান্ত, স্নিগ্ধ নদীর পাড়ে বসে সারাটা দিন কাটিয়ে দেওয়া যায়। তবে মন চাইলেও সেই সুযোগ নেই। কারণ, অনুমতি মাপা সময়ের জন্য। আলিপুরদুয়ারের ভারত-ভুটান সীমান্তে লুকিয়ে রয়েছে ওই রঙিন পাহাড়। কুমারগ্রাম লাগোয়া ভুটান ঘাটের অবস্থান বক্সা জঙ্গলের কোর এলাকার মধ্যে পড়ে। প্রায় দু'দশক ধরে সেখানে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। কারণ মূলত দুটো। প্রথমটি অবশ্যই বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ। দ্বিতীয়, জঙ্গি ঘাঁটি। এক সময়ে কেলএলও জঙ্গিদের আস্তানা ছিল এই এলাকা। জঙ্গি তাণ্ডবে পুড়ে গিয়েছিল বনবাংলো। যদিও জঙ্গি কার্যকলাপ এখন বন্ধ। তবে বন বিভাগের এবং এসএসবি-র (সশস্ত্র সীমা বল) কড়া নজরদারি রয়েছে।

    বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বিশেষ অনুমতি পেলে তবেই ময়নাবাড়ি এবং এসএসবি চেকপোস্ট পেরিয়ে পৌঁছতে হয় ভুটান ঘাটে। রিভারবেড পেরিয়ে ঘন জঙ্গলে পৌঁছতেই হরিণের দল, ময়ুর স্বাগত জানায় ক্ষণে ক্ষণে। এলাকায় বুনো হাতি এবং চিতাবাঘদের আনাগোনা রয়েছে। এলাকাটি নো-নেটওয়ার্ক জোন। গাইড পেতে হলে প্রয়োজন আলাদা অনুমতির।

  • Link to this news (এই সময়)