বরাদ্দ বৃদ্ধি নামে, মিলছে না মিড ডে মিলের টাকাই, মে-জুনের টাকা পায়নি বহু জেলার হাজার হাজার স্কুল
বর্তমান | ২৭ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মিড ডে মিলের বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করেছে রাজ্য সরকার। ১ আগস্ট থেকে তা প্রাপ্য স্কুলগুলির। কলকাতার বহু স্কুলে ইসকনের অধীন সংস্থার মাধ্যমে মিড ডে মিল দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, অনেক বিতর্কের পর কলকাতায় ডিমও পাচ্ছে স্কুল পড়ুয়ারা। তবে, এর পাশাপাশি প্রদীপের নীচে রয়েছে খানিক অন্ধকার। কারণ, বর্ধিত বরাদ্দ পাওয়া তো দূরের কথা, জুলাইয়ের বরাদ্দই পায়নি রাজ্যের স্কুলগুলি। পাশাপাশি বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলি থেকে অভিযোগ আসছে, তারা মে মাস থেকে মিড ডে মিলের টাকা পায়নি। ফলে মিড ডে মিল চালাতে ব্যাপক সমস্যায় পড়ছে স্কুলগুলি।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘ধার করে বাজার আনলে অনেক বেশি দাম ধরে নেন দোকানদাররা। সবজি বাজারে বেশি ধার রাখাও যায় না। এমনিতেই দ্রব্যমূল্য হু হু করে বাড়ছে। কীভাবে চলবে এই প্রকল্প? কেনই বা তিন মাসের বেশি বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে না?’ বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ বুধবার হান্ডা বলেন, ‘আজ বাঁকুড়া জেলায় সংগঠনের বৈঠক করেছি। সেখানেও তিন মাসের বেশি বকেয়া রয়েছে। এছাড়া ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর তো রয়েছেই। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এভাবে চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।’এই সংগঠনের তরফে মিড ডে মিল অধিকর্তার দপ্তরে অবিলম্বে টাকা ছাড়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জুলাইয়ে শিক্ষা বিষয়ক রিভিউ বৈঠকের পরে বিকাশ ভবন থেকেই রাজ্যের মিড ডে মিল পরিস্থিতির উন্নতি সাধনের জন্য নানা ঘোষণা করেন। ইসকনের মাধ্যমে মিড ডে মিল বিলির পাশাপাশি রাজ্যের স্কুলগুলিতে নতুন এলপিজি সংযোগের জন্য অর্থ প্রদান, রাঁধুনিদের ভাতা ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করার কথা বলেন। মিড ডে মিলের নতুন বাসনের বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণাও করেছিলেন। আগেও নানাভাবে এই ঘোষণাগুলি হয়েছিল। এলপিজি সংযোগের জন্য ৮ হাজার ৩৭৫টি স্কুলকে ৩ হাজার টাকা ছাড়ার অর্ডার আগেই হয়ে গিয়েছে। রাঁধুনিদের ভাতাবৃদ্ধির অর্ডারও হয়েছে। আগস্টের ভাতা তাঁরা বর্ধিত হারেই পাবেন।
মিড ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে নিয়মিতভাবে টাকা আসা খুবই দরকার। কারণ এটি একটি রেকারিং খরচ। এককালীন যে খরচগুলি রয়েছে, সেগুলিতে দেরি হলেও চরম সংকট তৈরি হয় না। তবে, এক্ষেত্রে হচ্ছে। পিএম পোষণ পোর্টালের রিপোর্টিং অনুযায়ী, রাজ্যের ৮৩ হাজার ৪২০টি স্কুলে মিড ডে মিল চলে। এর মধ্যে চারটি জেলা মিলিয়ে ১৯ হাজার ৬৭৮টি স্কুল তিন মাসের বকেয়া পায়নি বলে অভিযোগ। ফলে জেলাগুলির দোকানদার, সবজি বিক্রেতারাও সমস্যায় পড়ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, ‘বেশি ছাত্রছাত্রী থাকা স্কুলে একরকম সমস্যা। আর কম পড়ুয়ার স্কুলে আর এক। বেশি ছাত্রছাত্রী থাকলে বেশি টাকার বাকি নিতে হচ্ছে। আর কম পড়ুয়া থাকলে একলপ্তে বেশি জিনিস কিনলে দামের ক্ষেত্রে যে সুবিধা পাওয়া যায়, তা সম্ভব হয় না। কম পড়ুয়ার স্কুলে বিনামূল্যে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি আলু বা অন্যান্য জিনিসও বিনামূল্যে দেওয়া উচিত। তা তো হচ্ছেই না। উলটে টাকাই আটকে রয়েছে।’ কেন এই দেরি, তা নিয়ে অবশ্য কোনও সদুত্তর দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।