• ময়লার আস্তরণ পড়া ছানাতেই তৈরি হচ্ছে মিষ্টি! জরিমানা, লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি প্রশাসনের
    বর্তমান | ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, মালদহ: রেস্তরাঁর পর এবার মিষ্টির দোকান। ইংলিশবাজার ও সংলগ্ন এলাকাতে বুধবার ছুটির দিনেও বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে অভিযান চালালো জেলা প্রশাসন, পুরসভা এবং খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। মঙ্গলবার থেকে মালদহ শহর এবং পুরাতন মালদহের বিভিন্ন রেস্তরাঁ এবং খাবারের দোকানে অভিযান শুরু হয়েছে। এদিন অভিযান চলে বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে। মিষ্টির দোকানের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে ব্যবসায়ীদের কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। আজ, বৃহস্পতিবার এই অভিযানে নেতৃত্ব দেবেন জেলাশাসক রাজনভীর সিং কাপুর।

    খাবারের দোকানে অভিযান প্রসঙ্গে জেলাশাসক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। প্রতিটি খাদ্য প্রতিষ্ঠান নিরাপদ, টাটকা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনে আইনি ও নৈতিকভাবে দায়বদ্ধ। ক্রেতার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না।

    অতিরিক্ত জেলাশাসক (স্বাস্থ্য) অনিরুদ্ধ নন্দী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ২৫টি এবং বুধবার ৩০টি দোকানে অভিযান চলে। ইংলিশবাজারের সুকান্ত মোড়ের একটি মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি রঙ ব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রতিদিন ব্যাপক পরিমাণে খাসির মাংস বিক্রি করা পুরাতন মালদহ পুরসভা এলাকার একটি পরিচিত হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য এবং অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি রঙ যুক্ত খাদ্যপণ্য পাওয়া গিয়েছে। নির্ধারিত বিধি মেনে নমুনা সংগ্রহ, সিলবন্দি ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

    কৃষ্ণপল্লি এলাকার একটি বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং খামিরে ছত্রাক বৃদ্ধির প্রাথমিক লক্ষণ লক্ষ্য করা গিয়েছে। সেখান থেকেও খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রতুয়া-১ ব্লকের সামসির একটি হোটেলকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাগারের রিপোর্ট ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে খাদ্য সুরক্ষা ও মান আইন ২০০৬ এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

    এদিন অভিযানকারী দলের এক সদস্য বলেন, মিষ্টির দোকানে যে ছানার নমুনা মিলেছে, তার মান দেখলে শিউরে উঠতে হয়। অত্যন্ত নোংরা এবং অপরিচ্ছন্ন জায়গায় খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে ছানা। সেই ছানাতে ময়লার পুরু আস্তরণ পড়ে রয়েছে। এই ছানা দিয়ে তৈরি মিষ্টিই দেদার বিক্রি হচ্ছে।  জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন মালদহের আমজনতা। ইংলিশবাজারের বাসিন্দা শ্যামলী বাগচী বলেন, এই অভিযান না হলে জানতেই পারতাম না রেস্তরাঁগুলি থেকে আমরা কী খাচ্ছি! সুস্বাদু খাবারের নামে পরিচিত রেস্তরাঁগুলি ক্ষতিকর খাবার পরিবেশন করছে। যা দিনের পর দিন আমরা গলাধঃকরণ করছি। মিষ্টি খেতেও এখন গা শিউরে উঠছে।

    খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আইন অনুযায়ী এই ধরনের নিম্নমানের খাবার তৈরি এবং বিক্রির জন্য লক্ষাধিক টাকা জরিমানা হতে পারে। অপরাধের মান অনুযায়ী বাতিল হতে পারে লাইসেন্সও।
  • Link to this news (বর্তমান)