মালদহে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি থাকার নির্দেশ, গঙ্গায় হলুদ সতর্কতা
বর্তমান | ২৭ আগস্ট ২০২৬
সংবাদদাতা, মানিকচক: কয়েকদিন ধরে প্রতিনিয়ত বাড়ছে গঙ্গা ও ফুলহার নদীর জলস্তর। এই পরিস্থিতিতে জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা। কয়েকদিন ধরে যেভাবে জলস্তর বাড়ছে, তাতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা চরম বিপদ সীমা পেরতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মালদহ জেলার মানুষ।
এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে মালদহের মানিকচকে। বুধবার ছুটির দিনেও মানিকচক ব্লক কমিউনিটি হলে স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি বৈঠক হয়। যেখানে বন্যা পরিস্থিতির আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কী করণীয়, তা নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়। বন্যা কবলিত এলাকায় কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মীদের কথাও শোনা হয়। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য কর্মীদের।
প্রতিনিয়ত জলস্তর বাড়তে থাকায় ভূতনির কেশরপুর, বসন্তটোলা ও পশ্চিম রতনপুরের বেশ কিছু অসংরক্ষিত এলাকায় গঙ্গার জল ঢুকেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে- এই আশঙ্কায় জরুরি বৈঠক করছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। এদিনের বৈঠকে ছিলেন মালদহ জেলা যুগ্ম মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অমিতাভ মণ্ডল, অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হেমনারায়ণ ঝাঁ, মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অভীকশংকর কুমার এবং ভূতনির সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা প্রত্যেক স্বাস্থ্যকর্মীকে বন্যা পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। জরুরী কারণ ছাড়া স্বাস্থ্য কর্মীদের সমস্ত ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
ভূতনির গর্ভবতীদের তালিকা তৈরি এবং বন্যা পরিস্থিতি হওয়ার আগেই তাঁদের অন্যত্র স্থানান্তর করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির আগেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ মজুত রাখা, না থাকলে বিষয়টি জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র বা ভূতনি হাসপাতাল জলমগ্ন হয়ে পড়লে গর্ভবতীদের কোথায় রাখা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সমস্ত ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে পরিষেবা দেওয়া জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নৌকা বরাদ্দ রাখার দাবি জানানো হয়েছে। জেলা যুগ্ম মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অমিতাভ বলেন, প্রতিনিয়ত নদীর জল বাড়ছে। বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই সভা। গত দু’বছর খুব ভালোভাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিস্থিতি সামলেছেন। আশা করি, এবারও তাঁরা একইভাবে কাজ করবেন।