• রেলের ভূমিকায় ভোগপুরে ক্ষোভ ক্রমে বেড়েই চলেছে
    এই সময় | ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, ভোগপুর: রেললাইন আরও মজবুত করতে যাতায়াতের রাস্তা ভরাট করে দিয়েছে রেল। বাধ্য হয়ে রেললাইন ঘেঁষে স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। আর তাতেই বিপত্তি। মঙ্গলবার ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় ভোগপুর কেনারাম মেমোরিয়াল হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী সোমা জানার।

    সোমার মৃত্যু ফিরিয়ে দিল ২০২৪-এর আরও একটি দুর্ঘটনার স্মৃতি। সে বার একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল ভোগপুর কেনারাম মেমোরিয়াল হাইস্কুলের দুই ছাত্র দীপেন্দু সাঁতরা ও রূপঙ্কর কোলের। সোমার মৃত্যুসংবাদ শোনার পরে ভেঙে পড়েছেন ওই দুই পড়ুয়ার মা-বাবা। সন্তানহারা পরিবারগুলোর প্রশ্ন, আর কত প্রাণ গেলে ভোগপুরে তৈরি হবে আন্ডারপাস? সোমার মৃত্যুর তদন্তের দাবিতে বুধবার রেলকে স্মারকলিপি দিলেন স্থানীয়রা। মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা নিয়েই স্মারকলিপিতে সই করলেন সোমার মা-বাবও।

    ভোগপুর স্টেশন লাগোয়া তিনটি গ্রাম— ভোগপুর, কোদালিয়া ও বাঙালপুর। তিনটি গ্রামের তিন পরিবারের শোক মিলেমিশে একাকার। ২০২৪-এর ফেব্রুয়ারির এক রাতে ভোগপুর স্টেশনের অদূরে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় মৃত্যু হয় কোদালিয়া গ্রামের দীপেন্দু সাঁতরা ও ভোগপুর গ্রামের রূপঙ্কর কোলের। দু’জনেই তখন ভোগপুর কেনারাম হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। দীপেন্দু ভালো প্রতিমা গড়ত। আর রূপঙ্কর দড় ছিল খেলাধুলোয়। আড়াই বছর আগে সন্তান হারানোর স্মৃতি দগদগে সাঁতরা ও কোলে পরিবারের।

    মঙ্গলবার স্কুল যাওয়ার পথে ট্রেনের ধাক্কায় নবম শ্রেণির ছাত্রী সোমা জানার মৃত্যুর পরে চোখের জল বাঁধ মানছে না ওই দুই পরিবারের সদস্যদেরও। রূপঙ্করের বাবা সহদেব বলছেন, ‘স্কুলের সামনে আমার চায়ের দোকান রয়েছে। সোমা আর জয়িতা দু’জনে রোজ একসঙ্গে স্কুলে যেত। গতকাল দুর্ঘটনার পরে ছুটে যাই। আমার স্ত্রী-ও তখন বাজারেই ছিল। ছেলের কথা ভেবে আমি আর আমার স্ত্রী দু’জনেই কাঁদতে শুরু করি। রেলের অবহেলার জন্য কত মায়ের কোল খালি হয়ে গেল।’

    দীপেন্দুর দিদি মল্লিকার কথায়, ‘ভোগপুর স্টেশন লাগোয়া এলাকায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। ওই জায়গায় বহু মানুষ ট্রেনের ধাক্কায় মারা গিয়েছেন। তার পরেও রেল হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। আমরা চাই ওই জায়গায় দিনরাত রক্ষীর ব্যবস্থা করুক রেল।’

    মঙ্গলবার রাতে সোমা জানার দেহ পৌঁছয় গ্রামে। জানা বাড়িতে উপচে পড়ে ভিড়। চোখের জলে সকলে বিদায় জানান সোমাকে। ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় রেলের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে উদ্ধারে বাধার দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোগপুরের স্টেশন ম্যানেজার এবং খড়্গপুরের ডিআরএমকে স্মারকলিপি দিলেন স্থানীয় মানুষজন। স্মারকলিপিতে সই করেছেন মৃত সোমার বাবা শম্ভুনাথ জানা এবং মা সরস্বতী জানা।

    সরস্বতীর কথায়, ‘রেলের অব্যবস্থার কারণে মেয়েকে হারালাম। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিক রেল।’ এ বিষয়ে জানতে চেয়ে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের পাঁশকুড়া ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার প্রফুল্ল কুমার রাউতকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। উত্তর দেননি এসএমএসেরও।

  • Link to this news (এই সময়)