জয়পুর: স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে উদয়পুরের অন্যতম বিলাসবহুল হোটেল ‘ওবেরয়’–এ গিয়েছিলেন দিল্লির এক ব্যক্তি। টানা দশ দিন সেখানে থাকলেন, লাঞ্চ–ডিনার–সহ সব রকম লাক্সারি পরিষেবাও নিলেন, কিন্তু চেকআউটের সময়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ যখন তাঁর হাতে ধরালেন ৫.৭৪ লাখ টাকার বিল, তখন ওই ব্যক্তি দাবি করলেন— ওই অঙ্কের টাকা মেটাবেন ট্র্যাভেল এজেন্ট! যিনি তাঁর জন্য বুকিং করে দিয়েছিলেন ওবেরয় হোটেলের রুম। বিল না মিটিয়েই হোটেল ছাড়েন দিল্লির ওই পরিবার, এ দিকে ট্র্যাভেল এজেন্টও টাকা মেটাতে নারাজ। পরিস্থিতি এমনই, টাকা না পেয়ে অনুরাগ যাদব নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেন হোটেল কর্তৃপক্ষ।
সূত্রের খবর, ১৪ অগস্ট ‘ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ ছবির সেই আইকনিক শুটিং স্পট ওবেরয় উদয়ভিলাসে স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে চেক ইন করেন দিল্লির অনুরাগ। ২৩ অগস্ট পর্যন্ত তাঁরা ওই লাক্সারি হোটেলেই কাটান। তবে ২৪ তারিখ চেক আউটরে সময়ে তাঁদের বিল পে করার কথা বললে ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলে বেরিয়ে যান অনুরাগ। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানান, ১২ অগস্ট ওই সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি ইমেল মারফত অনুরাগের নামে ওবেরয়ে একটি রুম বুক করে। তবে বুকিংয়ের সময়ে পেমেন্ট সংক্রান্ত ডিসকাউন্ট বা বিশেষ ব্যবস্থার কোনও রকম এগ্রিমেন্ট ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে হয়নি ওবেরয়ের! তা হলে কি বেসরকারি সংস্থার কর্মী অনুরাগ মিথ্যে বলছেন, নাকি ট্রাভেল এজেন্সিই ঠকিয়েছে তাঁকে?
অম্বামাতা থানার এসআই অজয় রাজ সিং শেখাওয়াত জানান, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। অনুরাগের পরিবারের পাশাপাশি ট্রাভেল এজেন্সির ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন লাক্সারি স্টে-তে তুলনামূলক কম খরচে থাকার জন্য বিভিন্ন এজেন্সির অফার দেখে প্রলোভিত হন পর্যটকরা, কিন্তু পরে দেখা যায় এই ডিসকাউন্টের অনেক শর্ত রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও তেমন কোনও ব্যাপার কি না, তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।