এই সময়, নয়াদিল্লি: কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়ে দিয়েছেন, ২০৪৭ সালে দেশের স্বাধীনতার শতবর্ষের আগে দেশকে সম্পূর্ণ ভাবে বিকশিত করতেই হবে৷ এই লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুপ্রবেশ এবং মাদক–ই সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ তাঁর কথার সূত্র ধরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই বলে দিয়েছেন, ‘ভারতকে কোনও ভাবেই ধর্মশালা হতে দেওয়া যাবে না৷ এখানে থাকার অধিকার শুধু এ দেশের নাগরিকদের।’
সেই কথাই আরও একবার স্মরণ করালেন শাহ। দিল্লিতে ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিস’ কনফারেন্সে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, অনুপ্রবেশ এবং মাদক–মুক্ত দেশ গড়তেই হবে৷শাহের মতে, ‘জাতীয় নিরাপত্তা, দেশের অর্থনীতি এবং জনবিন্যাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ অনুপ্রবেশ। তাই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অনুপ্রবেশ রোখার লক্ষ্যে গত আট মাস ধরে ধারাবাহিক ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগের সরকার যদি মাদক পাচার, মাওবাদ এবং উত্তর-পূর্বের অশান্তি নিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ করত, তাহলে হয়তো দেশকে এত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হত না। তাদের দূরদর্শিতার অভাবেই দেশের সামনে এত কঠিন চ্যালেঞ্জ!’ শাহের মতে, উন্নত ভারত গড়ার জন্য চাই দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার পরিকল্পনা। অন্তত ১৫-২০ বছরের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা দরকার।
সাম্প্রতিক কালে মাদক পাচারের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যকেই। তালিকা থেকে বাদ পড়েনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাজ্য গুজরাটও৷ দেশের নবীন প্রজন্মের একটা বড় অংশ এই মাদকের প্রতি আসক্ত৷ এই পরিস্থিতির বদল ঘটাতে এবং মাদক–মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ–সহ দেশের প্রতিটি রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে যৌথ সমন্বয়ে কাজ করবে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি, জানিয়েছেন শাহ৷ তাঁর দাবি, স্বাধীনতার শতবর্ষের আগে আগামী দু’দশকে গোটা দেশকে অনুপ্রবেশ ও মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে চেষ্টায় কোনও খামতি রাখা যাবে না।