• বাড়ি নির্মাণে তোলা আদায়? সন্তু পানের আপ্ত সহায়কের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
    এই সময় | ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, আরামবাগ: তোলাবাজি বন্ধে প্রথম থেকেই কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। তার জন্য চালু হয়েছে 'টোল ফ্রি' নম্বর। দলের কোনও নেতা-নেত্রী কিংবা দলীয় পদাধিকারীরা যাতে তোলাবাজিতে জড়িয়ে না পড়েন, তার জন্য কয়েক দিন আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তা সত্ত্বেও বিজেপি এক শ্রেণির নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ ওঠায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে দলকে। এরই মধ্যেই প্রোমোটারদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা আদায়ের অভিযোগ উঠল তারকেশ্বর বিধায়ক সন্তু পানের আপ্ত সহায়ক সুশোভন রায়ের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে তারকেশ্বরে।

    বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী বলেন, 'তোলাবাজি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা তোলাবাজির অভিযোগ করছেন, তাঁরা চাইলে প্রশাসনের সাহায্য নিতে পারেন। এই অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করা দরকার। যাঁরা তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত, তিনি যেই হোন না কেন, তাঁদেরকে শাস্তি পেতেই হবে। এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। শাসকের আইন নয়।' যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অর্থাৎ বিধায়ক সন্তু পানের আপ্ত সহায়ক সুশোভন রায়ের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটা ঠিক নয়। সন্তু পানকে কালিমা লিপ্ত করার জন্যই এই ধরণের মনগড়া অভিযোগ করা হচ্ছে। তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নেননি। বিধায়ক সন্তু পানও তাঁর আপ্ত সহায়কের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এক কথায় খারিজ করে দিয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি অনিয়মের অভিযোগে মোট ৯টি নির্মাণকারী সংস্থাকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল তারকেশ্বর পুরসভা। অভিযোগ, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুরসভা থেকে কাজ শুরু করার অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে মোট টাকা নেন সুশোভন। নিজের পরিচয় গোপন রেখে তারকেশ্বরের এক প্রোমোটার টিভি ক্যামেরার সামনে জানিয়েছেন, কাজ বন্ধের নোটিস দেওয়ার পরে সুশোভন তাঁকে ফোন করে জানান, টাকা দিলেই তিনি ফের নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবেন। সুশোভনের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয় ওই প্রোমোটারকে। সেই মতো তিনি একটি জায়গায় আপ্ত সহায়কের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেই সময় প্রোমোটারের থেকে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। শেষমেষ সুশোভনের হাতে ১৪ লক্ষ টাকা তুলে দেন। কিন্তু তাতে কোনও কাজ না হওয়ায় সুশোভনকে টাকা ফেরত দিতে বলেন। কিন্তু এখনও তিনি কোনও টাকা ফেরত পাননি। তাঁর দাবি, হামলার ভয়ে তিনি এখনও থানায় অভিযোগ জানাতে পারেননি। তাঁর কথায়, 'বিধায়কের আপ্ত সহায়ক হওয়ার কারণে ওনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছি। বাড়ি বানানোর জন্য আমি ব্যাঙ্ক থেকে অনেক টাকা ঋণ নিয়েছি। বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষ করতে না পারলে ব্যাঙ্ক ঋণ শোধ করতে পারব না। তখন আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না।'

    এ বিষয়ে সন্তু পান বলেন, 'তৃণমূল আমলে বহুতল নির্মাণে অনেক বেনিয়ম হয়েছিল। বাড়ি তৈরির জন্য তারকেশ্বর পুরসভা অনুমতি দিয়েছিল, আবার তারাই কাজ বন্ধের নোটিস দিচ্ছে। বিষয়টা পুরসভাই ভালো বলতে পারবে।' সেই সঙ্গে তাঁর সরল যুক্তি, বাড়ি নির্মাণে যদি কোনও বেনিয়ম হয়ে থাকে নিয়ম মেনে ২৫ শতাংশ জরিমানা দিয়ে রেগুলারাইজ করে নিক। তাছাড়া এর কোনওটাই আমার সময়ে হয়নি। সবটাই হয়েছে তৃণমূলের আমলে।'

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের ব্যাখ্যা, বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে তারকেশ্বরে বিজেপির অন্দরে তুমুল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। এক গোষ্ঠী আর এক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে। সোমবার রাতে চাপাডাঙা কলেজ রোডে বিজেপির প্রথম সারির নেতা গণেশ চক্রবর্তীর বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার জেরে জখম হয়েছেন তাঁর স্ত্রী-পুত্র। তার ঠিক একদিন পরই সন্তু পানের আপ্ত সহায়কের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ ওঠায় এর পিছনে অন্য গন্ধ খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। মনে করা হচ্ছে, বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলের জেরেই এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে। তাতে মুখ পুড়ছে শাসকদলের।

  • Link to this news (এই সময়)