গত তিন মাসে খড়্গপুর শহরেই একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এই ধারাবাহিক ছিনতাই করে গিয়েছে নাবালকদের নিয়ে তৈরি গ্যাং। ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ২ জন নাবালক বলে জানিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।
পুলিশ সূত্রে খবর, চলতি বছরের মে মাস থেকে ধারাবাহিক ছিনতাই-এর ঘটনা ঘটেছে খড়্গপুর শহরে। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৬টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। খড়্গপুরের সেরসা স্টেডিয়াম (SERSA Stadium) ছাড়াও এই ঘটনা ঘটে খড়্গপুরের নিউ ট্রাফিক, ওল্ড সেটেলমেন্ট-সহ কয়েকটি এলাকায়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই মহিলাদের গলার হার ছিনতাই হয় বলে অভিযোগ আসে।
তবে, কারা এই কাজ করছিল তা বুঝতে পারছিল না পুলিশ। শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ে ওই দলের তিন সদস্য। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সুরজ কাহার এবং আরও দুই নাবালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুরজ। সুরজই এই দল গঠন করে বলে জানা গিয়েছে। ওই তিনজন মিলে একটি গ্যাং তৈরি করে ধারাবাহিকভাবে ছিনতাই করছিল।
ধৃতদের জেরা করে ছ'টি সোনার চেন উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে দু'টি চেন একটা সোনার দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি চারটি সোনার চেন উদ্ধার হয়েছে অভিযুক্তর বাড়ি থেকে।
জানা গিয়েছে, গয়না ছিনিয়ে নেওয়ার পরেই একটি সোনার দোকানে দিয়ে আসত ওই দলের সদস্যরা। মূলত তা গলিয়ে দিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হতো। তবে যে দোকানে ওই সোনার গয়না ‘বিক্রি’ করা হতো তা মালিককেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরে নিয়ে এসেছে পুলিশ।
এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কী না তাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। গত কয়েক মাসে মেদিনীপুর শহরেও বেশ কয়েকটা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে এই গ্যাং যুক্ত রয়েছে কী না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।