• আসানসোলের পরে পুরুলিয়া, সিলিকোসিস আক্রান্ত ১৬ জন
    এই সময় | ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল মহকুমার পরে এ বার পুরুলিয়ার নিতুড়িয়া ও রঘুনাথপুরে থাবা বসাল মারাত্মক ব্যাধি সিলিকোসিস। ২১ অগস্ট পুরুলিয়া জেলার সিলিকোসিস চিহ্নিতকরণ বোর্ডের প্রথম বৈঠকে ২১ জন সন্দেহভাজনকে হাজির করা হয়। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও যক্ষ্মা রোগ বিষয়ক আধিকারিক (ডিটিও) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ১৬ জন রোগীর শরীরে সিলিকোসিসের উপস্থিতি সুনিশ্চিত করা হয়েছে। আক্রান্তরা প্রধানত নিতুড়িয়ার গোপালগঞ্জ, ইনানপুর, লালপাহাড়ি, পাবতপুর, লায়েকডি ইত্যাদি এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁরা মূলত পাথর শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।

    শিল্পক্ষেত্রের ভয়াবহ দূষণের ফলে আক্রান্তদের হাত-পা ফুলে যাওয়া, তীব্র শ্বাসকষ্ট ও চরম দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। এই রোগের সন্ধান ও আইনি লড়াইয়ে দীর্ঘদিন যুক্ত সমাজকর্মী অমর মাহাতো জানান, পূর্বে আসানসোলের সালানপুর, বারাবনি ও জামুড়িয়ায় ১৪ জন সিলিকোসিস আক্রান্ত চিহ্নিত হয়েছিলেন এবং দু'জনের মৃত্যুও হয়। তাঁর উদ্যোগেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশে পুরুলিয়াতেও এই সমীক্ষা চালানো হয়। অমর মাহাতোর অভিযোগ, 'এদের অনেককেই টিবি রোগী বলে ভুল ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল, যা এর আগে পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও দেখা গিয়েছিল।' তিনি যোগ করেন, 'এখনও পর্যন্ত এই রোগের নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রকাশ্যে আসেনি। রোগীরা একপ্রকার মৃত্যুর জন্যই অপেক্ষা করে থাকেন।'

    তবে বোর্ড থেকে চিহ্নিত আক্রান্ত ও তাঁদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ও শিশুদের নিখরচায় লেখাপড়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ সামাজিক সুরক্ষাপ্রকল্প গ্রহণ করেছে।

  • Link to this news (এই সময়)