এই সময়, পুরুলিয়া: ঝালদা-১ ব্লকের ভ্রাম্যমাণ প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্রের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী চলতি অগস্টেই চাকরি হারিয়েছেন। কাজ ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর দ্বারস্থ হয়েছেন। চাকরিহারা এই আদিবাসী যুবকের নাম কাঞ্চন মাঝি। তিনি ঝালদা-১ ব্লকের কলমা গ্রামের বাসিন্দা।
মুখ্যমন্ত্রী এবং অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে কাঞ্চন জানিয়েছেন, ২০১৫-র নভেম্বর মাসে প্যারা ভেটেরিনারিয়ান পদে ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশন তাঁকে ঝালদা-১ ব্লকে চুক্তিবদ্ধ কর্মী হিসেবে নিয়োগ করেছিল। কাঞ্চনের কথায়, 'সে সময়ে জেলার মোট ১০টি ব্লকে ভ্রাম্যমাণ প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্র চালু হয়। ব্লক এলাকায় ঘুরে ঘুরে গবাদি পশুদের চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল আমাদের কাজ।'
দীর্ঘদিন কোনও সমস্যা না-হলেও চলতি অগস্টের গোড়ার দিকে কাঞ্চন-সহ অন্যান্য কর্মীদের নতুন করে ইন্টারভিউতে ডাকা হয়। কাঞ্চন জানান, ৬ অগস্ট কলকাতার নিউ টাউনের একটি ঠিকানায় ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশনই এই ইন্টারভিউয়ের ডাক দিয়েছিল। অগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে দেখা যায়, পুরুলিয়া জেলায় কর্মরত বাকি সব কর্মীকে পুনর্বহাল করা হলেও কেবল বাদ পড়েছেন কাঞ্চন। ক্ষোভ প্রকাশ করে কাঞ্চন বলেন, 'শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই চাকরিটা পেয়েছিলাম। কিন্তু কেন আমাকেই শুধু ছেঁটে ফেলা হল তার কোনও ব্যাখ্যা পাইনি। মুখ্যমন্ত্রী ও অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রীকে আমার প্রতি অবিচারের ঘটনা জানিয়ে চিঠি লিখেছি।' নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, 'ওঁকে সান্তনা দেওয়ারও ভাষা নেই। কী ভাবে যে তালিকা থেকে একজনই বাদ পড়লেন আমরাও জানি না। কারণ এই বিষয়টি জেলার এক্তিয়ারে নেই।'
অন্য দিকে, নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ছাঁটাই প্রসঙ্গে ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশনের মুখপাত্র মদনমোহন মাইতি জানান, চুক্তিবদ্ধ কর্মী হিসেবেই নির্দিষ্ট সময়ের প্রকল্পে এই কর্মীরা যুক্ত হয়েছিলেন। জুলাই মাসে কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু জেলা থেকে কেবল একজন কেন বাদ পড়লেন, সেই প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র মদনমোহন মাইতি বলেন, 'ইন্টারভিউ আমরা নিইনি। প্রাণি সম্পদ দপ্তরের আধিকারিকেরাই নিয়েছিলেন। আগের তালিকার কয়েকজন বাদ পড়েছেন বলে জানি। এর বেশি আর কিছু জানা নেই।'