• অসম-বাংলা সফর, সাতটি মনোলগ নিয়ে গণ্ডি পেরিয়ে অশোকনগর নাট্যমুখ
    আজকাল | ২৬ আগস্ট ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২৭ বছরের নাটকের যাত্রায় এক নতুন এক গবেষণা ও বীক্ষণের পথে দাঁড়িয়ে নতুন পথ তৈরি করছে অশোকনগর নাট্যমুখ। কলকাতা শহর থেকে এতটা দূরে থেকেও, শহরের প্রাণকেন্দ্রের বাইরে থেকেও নাটকের আলোয় আজীবন উজ্জ্বল থেকেছে এই নাট্যদল। এবার সেই নাট্যদল যাত্রা করছে এক নতুন পথের সন্ধানে। দলের বেশ কয়েকজন অভিনেতাদের নিয়ে একধারে তাঁরা সাতটি মনোলগ তৈরি করেছেন। সেই নাটক নিয়েই তাঁরা সফর করছেন উত্তর-পূর্বের রাজ্যে, পাশাপাশি, সেই অভিনয়ের সঙ্গে তাঁরা থিয়েটার শিক্ষার পাঠও দিচ্ছেন যাত্রাপথের একাধিক প্রতিষ্ঠানে।

    শুধুমাত্র নাট্যনির্মাণের তথাকথিত কাজে নয়, একই সঙ্গে পত্রপত্রিকা প্রকাশ, অনলাইন জার্নাল প্রকাশ, জাতীয় ও জেলা নাট্যোৎসবের আয়োজন, স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে নানান ধরনের কর্মশালার উদ্যোগ-সহ একাধিক নাট্যসংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত থেকেছে এই নাট্যদল।

    দলের নির্দেশক অভি চক্রবর্তী এই আয়োজন নিয়ে জানিয়েছেন, ‘থিয়েটারের সামগ্রিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে আমরা একটা নতুন ভাবনাচিন্তা করেছি। দলের মুখ্য অভিনেতা সংগীতা চক্রবর্তী-সহ অরূপ গোস্বামী, গৌতম বসু, শ্রেয়া সরকার, পূজা কুন্ডু, দীপ্তসি সাহা ও অঞ্জন কুমার হোড়কে নিয়ে সাতটি মনোলগ তৈরি করেছি। যে তিমিররাত্রির মধ্যে দিয়ে সার্বিকভাবে আমরা চলেছি, মনোলগগুলিতে তারই বহুস্তরীয় হদিশ পাওয়া যাবে।'

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রায় প্রত্যেকটি মনোলগই বিদেশী নাটক অনুসৃত। অভি আরও জানান, নাটকগুলি নির্মাণে সচেতনভাবেই মঞ্চ-আলো-আবহ ও অন্যান্য সাজ- সরঞ্জামের অতিরেক যাতে না হয় সেদিকে নজর রাখা হয়েছে। চেষ্টা করা হয়েছে ক্যাফে থেকে ছাদ, স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি এমনকী বড়ো বৈঠকখানাতেও যাতে এগুলো অভিনীত হতে পারে।

    মূল নাটকগুলির ক্ষেত্রে অভি নির্ভর করেছেন প্যালেস্টাইনের খালা ইব্রাহিম, পোল্যান্ডের তাদেউশ রুজেভিচ এবং ক্রিস্টিয়ান লুপা, ইংল্যান্ডের ডানকান ম্যাকমিলান, বাংলাদেশের বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, কানাডিয়ান কবি জে. এল. কয়যান এবং ব্রাজিলের নেলসন রডরিগেস। এইসব নাটককারেদের নাটক বা নাট্যভাবনার প্রকাশ বাংলায় প্রথম। অভি বলেছেন, দলের নিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতারা এই কাজের মাধ্যমে নিজেদের সামগ্রিক স্কিল বৃদ্ধির সুযোগ পাবে। এই নাট্যনির্মাণে অভি গুরুত্ব দিয়েছেন অভিনেতাদের অন্তরকে। প্রতিটি নাটক তৈরি হয়েছে, কর্মশালার মাধ্যমে। প্রত্যেক নাটককারের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিয়ে অভিনেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন অভি।

    এই নাটকগুলির অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁরা করে চলেছেন বাংলা-অসম সফর। সেখানে তাঁরা এই নাটকগুলি অভিনয়ের পাশাপাশি করেছেন কর্মশালাও। চিলা রায় কলেজ এবং প্রমথেশ বড়ুয়া কলেজে দু’টি নাটক অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে ইচ্ছেবাড়ি ক্যাফেতে অভিনয় হয়েছে দু’টি মনোলগ- 'ঘোষণার আগে' এবং 'হৃদয় ভাঙার গান'। পাশাপাশি, অসমের চিলা রায় কলেজে সম্মানিত করা হয় দলের নির্দেশক অভি চক্রবর্তীকে। এর পর দলের জন্মদিনে ৬ সেপ্টেম্বর অমল আলোয় সারাদিন ব্যাপী নাট্যোৎসবে প্রথম অভিনয় হবে 'নরকে এক ঋতু'। উপস্থিত থাকবেন নাট্যজগতের জরুরি মানুষজন।
  • Link to this news (আজকাল)