নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সামাজিক মাধ্যমে ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে নতুন লড়াইয়ের ঘোষণা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রী একেবারে খোলাখুলি জানিয়ে দিলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই এবার তীব্রতর হতে চলেছে। আর এই লড়াইয়ে, শহর থেকে গ্রাম, বাংলার মহিলাদের একত্র করতে করতে চলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, ‘বিজেপিকে সন্ন্যাসে না-পাঠানো পর্যন্ত এবারের লড়াই থামবে না।’
সোমবার বিকেলে ফেসবুকে দলের নেতা, কর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আধ ঘণ্টার এক বার্তা দেন মমতা। তাতে ছিল রাজ্যের বিজেপি সরকারের কঠোর সমালোচনা। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সবে ১০০ দিন পার করেছে। মমতার অভিযোগ, এই সামান্য সময়েই সমাজের সর্বক্ষেত্রে দুর্ভোগ চূড়ান্ত আকার নিয়েছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যজুড়ে সাম্প্রতিক ঘটনাটিগুলির উল্লেখ করেন তিনি। জননেত্রীর দাবি, ‘আমাদের সরকার ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিত। আর এই জমানায় ৭৫ শতাংশ বন্ধ হয়ে গিয়েছে! অন্নপূর্ণায় বঞ্চিত মহিলা আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছেন।’ অন্নপূর্ণা ভাতা প্রাপকের সংখ্যায় ‘জল মেশানো হচ্ছে’ বলেও দাবি তাঁর। অন্নপূর্ণা নিয়ে ‘মানুষের সঙ্গে প্রতারণা’রও অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘সবাইকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ফিরিয়ে দিন।’ মমতা বলেন, ‘বঞ্চিত মহিলাদের পরিচয় জেনে রাখুন। আগামী দিনে আমরা নিশ্চয় কোনো একটি ব্যবস্থা করব।’
পার্ক স্ট্রিট ফুটপাতের গরিব মহিলার সঙ্গে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের বিতর্কিত আচরণেরও নিন্দা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘ওই মহিলার পরিবারের দায়িত্ব নিতে আমি রাজি আছি।’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গেরুয়া তাণ্ডবের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ‘বিজেপি আমলে জবরদস্তি, তোলাবাজি, গুন্ডামি চলছে। অন্যদিকে, পুলিশ দিয়ে দমন করা হচ্ছে বিরোধীদের।’ নেত্রীর প্রত্যয়ী ঘোষণা, ‘এদের পতন শীঘ্রই হবে। দিল্লির আন্দোলন দেখেছেন তো? বিজেপিকে প্রত্যুত্তর পেতেই হবে।’
অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। মমতার প্রতি শুভেন্দুর পরামর্শ, ‘ফেসবুকেই থাকুন আপনি বিকেলবেলা, আপনাকে রাস্তায় বেরোতে হবে না।’ ওইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘আর আপনি যাতে রাস্তায় বেরোতে না-পারেন তার ব্যবস্থাও আমি করব।’ শুভেন্দু বলেন, ‘আপনি বারুইপুর নিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন, গোল খেয়ে বাড়ি এসেছেন। আপনি হালিশহর নিয়ে চেষ্টা করেছিলেন, সেখানেও ডবল গোল খেয়ে বাড়ি এসেছেন।’ ফের পরামর্শ তাঁর, ‘কথা কম বলুন, বিশ্রাম করুন, অনেক বয়স হয়েছে।’