• সোসাইটি থেকে ১ কোটি ৩০ লক্ষ নিয়ে ঋণখেলাপি ২৪ জন শিক্ষক-অশিক্ষক, নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত
    বর্তমান | ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: কোলাঘাট ব্লকের কোলা ইউনিয়ন হাইস্কুলের এমপ্লয়িজ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা লোন নেওয়ার পর শোধ করছেন না ২৪ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী। ফলে সোসাইটির তহবিলের অবস্থা ভাঁড়ে মা ভবানী। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই সমস্যায় নাজেহাল অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অবসর নেওয়ার পরও তাঁরা নিজেদের প্রাপ্য পাচ্ছেন না। এনিয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার অফ কো-অপারেটিভ সোসাইটির কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। ২২ আগস্ট স্কুলে এনিয়ে জরুরি বৈঠক হয়। সেখানে ঠিক হয়েছে, ঋণখেলাপি ২৪ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীকে নোটিস দেওয়া হবে। সময়মতো টাকা না দিলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

    জানা গিয়েছে, ২০১০-১১ সাল থেকে এক দশকের বেশি সময় ওই হাইস্কুলের এমপ্লয়িজ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটিতে কোনও অডিট হয়নি। শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা একটা সময় পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে টাকা রাখলেও পরবর্তীতে তাঁদের অনেকেই অনিয়মিত হয়ে পড়েন। ২০১৬ সালে প্রধান শিক্ষক স্কুলে যোগ দিলেও এমপ্লয়িজ কো-অপারেটিভের মেম্বারশিপ গ্রহণ করেননি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কেউ কেউ ঊর্ধ্বসীমা ছাড়িয়ে লোন নিয়েছেন বলেও অভিযোগ। ওই স্কুলের অশিক্ষক কর্মী বংশীবদন মণ্ডল সাত লক্ষ টাকা লোন নিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি অবসর নিয়েছেন। অথচ, লোন শোধ করেননি। এখন তাঁর কাছ থেকে এমপ্লয়িজ কো-অপারেটিভের পাওনা প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। সোমবার জানিয়েছেন সোসাইটির সম্পাদক তথা শিক্ষক অজয় রায়। এভাবেই প্রায় ২৪ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা লোন নিয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশ করোনার সময় থেকে কিস্তি মেটাচ্ছেন না। আবার কেউ কেউ তার আগে থেকে কিস্তি মেটানো বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে সোসাইটিতে টাকা রেখেও অন্য শিক্ষকরা তুলতে পারছেন না। যেমন, ওই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অসিতকুমার গত ১৭আগস্ট সোসাইটির সম্পাদক এবং প্রধান শিক্ষককে চিঠি দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ১৯৮০ সাল থেকে ২০২১ সালের ৩১মার্চ পর্যন্ত শিক্ষকতা করে অবসর নিয়েছেন। অথচ, তিনি কোঅপারেটিভ থেকে নিজের প্রাপ্য পাচ্ছেন না। চিকিৎসার জন্য তাঁর টাকার প্রয়োজন। অসিতবাবুর মতো আরও দু’জন শিক্ষক সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন। তাঁরাও প্রাপ্য টাকা পাচ্ছেন না। আসলে, ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ঋণ বাবদ বিভিন্ন জনের অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার পর এখন তহবিল ফাঁকা। পাওনা টাকা শোধ দেওয়া যাচ্ছে না। এনিয়ে এমপ্লয়িজ কো-অপারেটিভের সম্পাদক বলেন, ‘বংশীবদনবাবু সহ আরও যাঁরা লোন নিয়েছেন তাঁদের প্রায় ২৪ জন ঠিকমতো শোধ দিচ্ছেন না। এটাই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত অডিট না হওয়ায় একটা সমস্যা তৈরি হয়েছিল। আমরা গত শনিবার এনিয়ে মিটিংয়ে বসেছিলাম। সেখানে ঠিক হয়েছে, ঋণ খেলাপিদের নোটিস পাঠানো হবে। তারপর কাজ না হলে সমবায় আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

    প্রধান শিক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, আমি ২০১৬ সালে যোগ দিই। তখন দেখি, এমপ্লয়িজ কো-অপারেটিভে নানা সমস্যা রয়েছে। নিয়মিত অডিট হয়নি। তাই আমি মেম্বারশিপ নিইনি। অনেকে লোন নিয়ে শোধ করেননি। তাই অবসরের পরও কয়েকজন শিক্ষক তাঁদের পাওনা টাকা পাচ্ছেন না।
  • Link to this news (বর্তমান)